বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের সহ-সভাপতির গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। পড়ুন বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (২৮ মে) এক জরুরি ঘোষণায় জানিয়েছে, সহ-সভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায়’ গ্রেফতারের প্রতিবাদে সারা দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো বৃহস্পতিবার (২৯ মে) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এই ঘোষণা দেশের অর্থনীতি ও স্বর্ণ ব্যবসা খাতে তাৎক্ষণিক এক প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সহ-সভাপতি মো. রিপনুল হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।” তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে এ গ্রেফতার “গভীর উদ্বেগজনক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।”
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণ বিপণি অঞ্চল তাঁতীবাজার থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রিপনুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশে জুয়েলারি শিল্প বছরে হাজার কোটি টাকার লেনদেন করে। এই শিল্প হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলে বিয়ে-মূলক পারিবারিক আয়োজনসহ স্বর্ণনির্ভর খাতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তদুপরি, হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মজীবী অস্থিরতার মধ্যে পড়বে। বাজুসের এই সিদ্ধান্ত সরকার ও প্রশাসনের প্রতি চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
অনেকে বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন হস্তক্ষেপ ব্যবসায়ী মহলে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি করতে পারে। অপরদিকে, অনেকে মনে করেন, আইন নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে, সে যত বড় ব্যবসায়ীই হোক।
বর্তমান পরিস্থিতি বেশ স্পর্শকাতর। সরকার ও বাজুস—উভয়ের পক্ষ থেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করলে একটি স্থিতিশীল খাত মুখোমুখি হতে পারে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের। দ্রুত সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে এই অচলাবস্থা নিরসন না হলে সাধারণ ভোক্তাসহ গোটা ব্যবসায়িক পরিবেশ বিপর্যস্ত হতে পারে।
