কুমিল্লার একটি মসজিদের সংস্কার বরাদ্দ নিয়ে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে অভিযোগ প্রকাশ প্রশাসন তদন্তের কথা বলেছে।
মসজিদ সংস্কার বরাদ্দ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার একটি মসজিদের সংস্কারকাজের সরকারি বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি, সরকারি ই-টেন্ডারের অর্থ বরাদ্দ এবং কাজের বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের আগে কী প্রতিশ্রুতি ছিল?
কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচাকান্দা পূর্বপাড়ার বাইতুলফালা জামে মসজিদ সংস্কার নিয়ে নির্বাচনের আগে স্থানীয়দের কাছে ব্যক্তিগত অর্থায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে কয়েকজন বাসিন্দার দাবি।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে সীমিত আকারে সংস্কারকাজ হলেও প্রতিশ্রুত কাজের সঙ্গে বাস্তবায়নের মিল পাওয়া যায়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে মসজিদটির জন্য ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্য দাবি করেন, বরাদ্দের বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মিরণের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মুক্তি বার্তা ৭১ কে জানায়, জেলা প্রশাসনের একটি সভায় তারা সরকারি বরাদ্দের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকেই সংস্কারকাজের অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়।
কাজের মান নিয়েও অভিযোগ
প্রতিবেদনে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, সম্পন্ন হওয়া সংস্কারকাজের মান এবং ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, বাস্তবে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঠিকাদারি বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেছে
কার্যাদেশ পেয়েছিল মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুল মিজান বলেন, তিনি কাজটি অন্য একজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করিয়েছেন
এবং জেলা পরিষদের প্রকৌশলীরা কাজ তদারকি করেছেন। তার দাবি, কোনো অনিয়ম হওয়ার কথা নয়।
অন্যদিকে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজটি একাধিক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেন।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া মুক্তি বার্তা ৭১ কে বলেন, অভিযোগটি তিনি নথিভুক্ত করেছেন।
তদন্তে কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বর্তমান অবস্থা
প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের ওপরই রয়েছে।
দেবিদ্বারের বাইতুলফালা জামে মসজিদের সংস্কার বরাদ্দ নিয়ে ওঠা অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরকারি অর্থের ব্যবহার, ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পেলে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
