আজিমপুর সরকারি আবাসনে রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনা ও সরকারি জায়গা ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
সরকারি আবাসনে রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনার অভিযোগ, তদন্তের দাবি
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি আবাসন এলাকায় সরকারি জায়গা ব্যবহার করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আজিমপুর সরকারি আবাসনের একটি অংশে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা, স্থায়ী প্যান্ডেল নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কী অভিযোগ উঠেছে?
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি আবাসনের ২৭ নম্বর সরকারি কলোনির একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে প্যান্ডেল টানিয়ে ক্লাবসদৃশ অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ওই স্থান থেকে নিয়মিত রাজনৈতিক বৈঠক ও দলীয় কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
বহিরাগতদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে কর্মসূচির সময় অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
বাসিন্দাদের উদ্বেগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা নিরাপত্তা ও বসবাসের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে তারা মনে করছেন।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু বাসিন্দা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অবস্থান
সরকারি আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনার বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল (ঢাকা)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. উজির আলীর বক্তব্যও প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনার সুযোগ নেই।
তবে আবাসিকদের বিনোদন বা রিফ্রেশমেন্টের জন্য ক্লাব থাকতে পারে।
যদি কোনো স্থানে রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে গণপূর্ত বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থানেবে বলে তিনি জানান।
অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে লালবাগ থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউর আলম সুইট তিনি রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন,
নির্বাচনের সময় সেখানে কেবল ব্যানার টানানো হয়েছিল এবং তিনি ওই স্থানে কোনো রাজনৈতিক ক্লাব পরিচালনা করেন না।
তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগে যদি সত্যতা পাওয়া যায়,
তাহলে সরকারি সম্পদের সুরক্ষা ও আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
ফলে অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্ত ও যাচাইয়ের বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ নতুন করে সরকারি সম্পদের ব্যবহার,
আবাসিক পরিবেশের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই
এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই এবিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
