আওয়ামী লীগের পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার স্ত্রী সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কাজী মৌসুমী কারাগারে
সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাবেক এমপির স্ত্রী কাজী মৌসুমী কারাগারে
পঞ্চগড়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য মেজর (অব.) কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পঞ্চগড় জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নীলুফা ইয়াসমিনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহবুব আলী মুয়াদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
হাইকোর্টের জামিন শেষে আত্মসমর্পণ
আদালত সূত্রে জানা যায়, কাজী মৌসুমী ও নীলুফা ইয়াসমিন এর আগে হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন।
তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন গ্রহণ না করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ কী?
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ জুন রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার খামারবাড়িতে আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মেজর (অব.) কাজী মৌসুমীর নেতৃত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ১২০ জন অংশগ্রহণ করেন। সেখানে কেক কাটা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, নগদ অর্থ ও খাবার বিতরণ এবং অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের উৎসাহিত করা
এবং রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতে আসামিপক্ষের বক্তব্য
আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন আদালতে জানান, কাজী মৌসুমী একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তাঁর একটি ছোট ছেলে প্রতিবন্ধী এবং অসুস্থ।
অন্যদিকে নীলুফা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং তাঁর একটি পা প্রায় অচল হওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছে।
এসব মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালতের কাছে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।
মামলার পটভূমি
পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া ২০২৫ সালের ২০ জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে
এবং আরও ১২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
আদালতের সর্বশেষ আদেশে মামলার দুই আলোচিত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
