রাঙামাটিতে অতিবৃষ্টিতে ১২৬ স্থানে পাহাড়ধস। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত, এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ব্যবসায়ীর সন্ধানে চলছে তৎপরতা।
রাঙামাটিতে ১২৬ স্থানে পাহাড়ধস, নিখোঁজ ব্যবসায়ী; উদ্ধার বৃদ্ধের মরদেহ
অতিবৃষ্টিতে রাঙামাটিজুড়ে পাহাড়ধস, বিপর্যস্ত যোগাযোগ
টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে ব্যাপক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১২৬টি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, বেশ কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক, কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়ক এবং বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের বিভিন্ন অংশে পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন উদ্ধার ও সড়ক সচল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত
সওজ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় পাহাড়ধস হলে সড়কের ওপর বিপুল পরিমাণ মাটি জমে যায়। ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সওজের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি অপসারণের কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সড়কের এক পাশ দিয়ে ছোট ও হালকা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও পুরো সড়ক সচল করতে কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের মতিপাড়া এলাকায় চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কেও পাহাড়ধসের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পাশাপাশি বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় সড়ক ধসে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জেলার ১২৬ স্থানে পাহাড়ধস, আশ্রয়কেন্দ্রে চার হাজারের বেশি মানুষ
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১২৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, বাঘাইছড়িতে ৩২টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি এবং নানিয়ারচরে দুটি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে।
বর্তমানে জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য, নিরাপদ পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলে ভেসে যাওয়া বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে পাহাড়ি ছড়ার স্রোতে ভেসে যাওয়া ৭০ বছর বয়সী দলমনি চাকমার
মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ডুলুছড়ি এলাকায় একটি পাহাড়ি ছড়া পার হওয়ার সময় তিনি স্রোতে ভেসে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে একটি খালে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করেন।
মগবান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুষ্প রঞ্জন চাকমা ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিলাইছড়িতে নিখোঁজ মুদি ব্যবসায়ী
অন্যদিকে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানির মধ্যে নিখোঁজ হয়েছেন মুদি ব্যবসায়ী মো. বদি আলম।
তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও ফারুয়া বাজারে ব্যবসা করতেন।
বুধবার রাতে মোটরসাইকেলে বাজারে যাওয়ার পথে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কের একটি অংশ অতিক্রম করার সময়
তিনি নিখোঁজ হন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দুর্গতদের পাশে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন এবং সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
তারা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এতে কৃষিজমি, বসতবাড়ি এবং স্থানীয় অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
