সাভারের পর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
শেরেবাংলা নগরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ
রোববার দুপুর ঠিক সাড়ে বারোটার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ জিয়া উদ্যান প্রাঙ্গণে পৌঁছান দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা মাজার এলাকা এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল আবহে রূপ নেয়।
নির্ধারিত প্রটোকল মেনে তিনি জিয়া উদ্যানের মূল বেদির কাছাকাছি এগিয়ে যান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা জানান। মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর তিনি কিছু সময় নিরবতা পালন করেন এবং রাষ্ট্রের এই দুই শীর্ষ নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির এই মাজার জিয়ারত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা নগর এবং এর আশপাশের সমগ্র এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম মাত্রায় জোরদার করা হয়েছিল।
সাধারণ পথচারী ও দর্শনার্থীদের চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু সময়ের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি: মাজার চত্বর ও এর প্রবেশদ্বারগুলোতে পুলিশ, এপিবিএন এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্যকে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
- যানবাহন নিয়ন্ত্রণ: জিয়া উদ্যান সংলগ্ন সড়কগুলোতে ভিআইপি প্রটোকল বজায় রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট এড়াতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
- গোয়েন্দা নজরদারি: সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করেন বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার দক্ষ কর্মীরা।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক কর্মপন্থা ও বর্তমান আবাসন
গত ২৪ জুলাই দেশের রাজনৈতিক ময়দানে আকস্মিক এক সাংবিধানিক মোড়নেয়, যখন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তার শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে
এবং চিকিৎসকদের কঠোর পরামর্শ মেনে তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের দপ্তরে প্রেরণ করেন। এর ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী
দেশের সাংবিধানিক শূন্যতা রোধে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে,
তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল বঙ্গভবনে তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম ও অফিস পরিচালনা করলেও, ব্যক্তিগত বাসস্থানের ক্ষেত্রেনিজের পূর্বের সিদ্ধান্তবহাল রেখেছেন।
বঙ্গভবনে স্থায়ীভাবে বসবাস না করে তিনি জাতীয় সংসদভবন এলাকার নির্ধারিত স্পিকারের বাসভবনেই তার দৈনন্দিন অবাসিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা জানিয়েছেন।
দেশের ক্রান্তিলগ্নে তার এই বিচক্ষণ ও মাটিসংলগ্ন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

- ছবি ১: শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মুহূর্ত।

- ছবি ২: জিয়া উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নিরাপত্তার দৃশ্য।
দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের একের পর এক রাষ্ট্রীয় মাজার
ও স্মৃতিসৌধ জিয়ারত কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দেশের মুক্তিসংগ্রাম ও রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের বহিঃপ্রকাশ।
সাভার থেকে শুরু করে শেরেবাংলা নগরের এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
