গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট। হতাহতের খবর এখনো মেলেনি।
টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ওষুধ কারখানায় হঠাৎ আগুন
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল টঙ্গীর অত্যন্ত জনবহুল ও পরিচিত চেরাগ আলী এলাকায় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। নামকরা ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ কারখানায় হঠাৎ করেই ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার ভেতরে এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। চারপাশের আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের নিরলস প্রচেষ্টা
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়ে যায়। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের মোট চৌদ্দটি ইউনিট অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছে। টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি উত্তরা, গাজীপুর এবং আশপাশের অন্যান্য স্টেশন থেকেও কর্মী ও গাড়ি পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় আরও কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
ভবনটির বিশেষ গঠনশৈলী আগুন নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে কারখানার ভবনটি মূলত ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের আধুনিক কাঠামোগুলো দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া পুরো ভবনে প্রচুর পরিমাণে কাচের ব্যবহার থাকায় ভেতরের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে আগুন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনের অন্যান্য অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ভবনের এই বিশেষ কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কাচ ভেঙে ভেতর থেকে ধোঁয়া ও তাপ বের হতে না পারায় আগুন নেভানোর কাজটি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
কারখানার ভেতরে আটকা পড়ার শঙ্কা ও হতাহতের তথ্য
এখন পর্যন্ত দুপুর পর্যন্ত এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার উৎপাদন ইউনিটের ভেতরে কোনো শ্রমিক বা কর্মকর্তা আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভেতরে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারখানার ভেতরে থাকা মূল্যবান ওষুধ তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল এবং ভারী যন্ত্রপাতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
আগুনের সুনির্দিষ্ট সূত্রপাত এখনো অজানা
ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলো, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি কেউ। কারখানার দুই নম্বর ইউনিট থেকে প্রথম আগুনের শিখা দেখতে পাওয়া গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে। ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞরা আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে চারপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে এবং কৌতূহলী জনতাকে দূরে রাখছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
- দুর্ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে? গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কারখানায় এই আগুন লাগে।
- কখন আগুনের সূত্রপাত হয়? বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
- কতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে? বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের চৌদ্দটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
- এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর আছে কি? দুপুর পর্যন্ত হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
