বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রোডম্যাপ ঘোষণায় বিলম্ব ও জামায়াতকে আসন ছাড়ার দরকষাকষি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নয়াদিল্লি ক্রমেই চিন্তিত হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সাউথ ব্লক) এবং গোয়েন্দা সদর দপ্তর (লোধি রোড) যৌথভাবে একটি ‘সিচুয়েশন রিপোর্ট’ তৈরি করেছে, যেখানে ড. ইউনূসের কৌশলগত নীরবতা ও রাজনৈতিক দরকষাকষির সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে।
সাউথ ব্লক সূত্র বলছে, ড. ইউনূস বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে জটিল আলোচনায় লিপ্ত রয়েছেন।
আলোচনার একটি বড় অংশ ঘিরে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীকে অন্তত ৫০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব, একইসঙ্গে সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আরও কিছু ছোট ইসলামি দলকে সমসংখ্যক আসন দেওয়ার বিষয়টি।
এই পদক্ষেপ, পর্যবেক্ষকদের মতে,
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক ইসলামপন্থী মেরুকরণ গড়ে তুলতে পারে। ভারতের কূটনৈতিক মহল এই প্রবণতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না।
প্রথমত, জামায়াতের অতীত ভূমিকা এবং উগ্রপন্থী এজেন্ডা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
দ্বিতীয়ত, একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের চেয়ে রাজনৈতিক জোটের হিসাব-নিকাশে বেশি মনোযোগ দিলে, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার বদলে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
নয়াদিল্লি একসঙ্গে দুই দিকেই নজর রাখছে—বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনও অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ভারতের কাছে এই দুই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সরাসরি আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত, বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, শরণার্থী সংকট, এবং চীন-ভারত কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে।
দিল্লি মনে করছে, সেনাবাহিনী শেষ পর্যন্ত ড. ইউনূসকে একটি সুস্পষ্ট, সময়সীমাবদ্ধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণায় বাধ্য করবে।
ভারতীয় নীতি নির্ধারকরা মনে করেন, এতে কেবল বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বজায় থাকবে।
ড. ইউনূসের সামনে এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ—একদিকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ।
কিন্তু রোডম্যাপ ঘোষণায় বিলম্ব এবং ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে গোপন দরকষাকষি ভারতের কাছে সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদি এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে বাংলাদেশ কেবল অভ্যন্তরীণ সংকটে নয়, বরং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতেও এক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
