বাংলাদেশের রাজনীতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতার ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। সেনাবাহিনী নির্ভরতা, বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্ব, আন্তর্জাতিক চাপ এবং জনগণের ক্ষোভ তার পতনের ঘণ্টাধ্বনি বাজাচ্ছে। বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন।
বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান চিত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির পুনরুত্থান, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণ এবং সেনাবাহিনী নির্ভর রাজনীতির ভঙ্গুরতা তার জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউনূস আজ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মূলত সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করছেন।
১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান বা এরশাদের মতো সেনা-সমর্থিত শাসকরা বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন।
ইতিহাস প্রমাণ করে— সেনাবাহিনী নির্ভর ক্ষমতা কখনো স্থায়ী হয়নি।
ইউনূসও এই ফাঁদে আটকে পড়েছেন।
একদিকে বিএনপিকে বিভক্ত করা, অন্যদিকে জামায়াত-হেফাজতের জঙ্গি শক্তিকে ব্যবহার করা—এই দুই কৌশল নিয়েই টিকে থাকার চেষ্টা করছেন ইউনূস।
কিন্তু বিএনপি এখন আর নির্বাচন আদায়ের সক্ষমতা রাখে না।
বরং জামায়াত-শিবিরের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
কুমিল্লায় একই পরিবারের তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যা তার সাম্প্রতিক উদাহরণ।
ফলে বিএনপি ধীরে ধীরে বলির পাঁঠা হয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউনূসের ওপর আরেকটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে রাশিয়া-ভারত-চীন (RIC) জোট সক্রিয় হওয়ার কারণে।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার করতে, কিন্তু এই ত্রিমুখী শক্তির উত্থান ইউনূসের কৌশলকে জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইউনূসের গদি টিকিয়ে রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি নতুন করে মাঠে নেমেছে।
সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা—সবাই এখন ইউনূসের দমননীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন।
২৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং বিরোধীদের ওপর হামলার মতো পদক্ষেপ শুধু তার জনঅসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।
ফলে ইউনূস এখন একেবারে “মাইনকা চিপায়” পড়ে গেছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—জনগণের ক্ষোভকে দমন করে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়।
ইউনূস আজ যেভাবে সেনাবাহিনী ও জামায়াত-হেফাজতের সন্ত্রাসী শক্তির ওপর নির্ভর করে গদি টিকিয়ে রেখেছেন, তা যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
দেশের অলিগলি থেকে ভেসে আসা স্লোগান “সুদখোর ইউনূস বিদায় নাও” হয়তো সেই পতনের ঘণ্টাধ্বনির প্রথম ধাপ।
বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের একমাত্র অধিকার জনগণের।
জনগণ যখন রাস্তায় নেমে আসে, তখন কোনো বন্দুকের নল, কোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত, কোনো কূটনৈতিক সমর্থনই ক্ষমতাকে রক্ষা করতে পারে না।
ড. ইউনূস এখন সেই চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখোমুখি।
ইতিহাস বলে দেয়—তার ভবিষ্যৎ আলোকিত নয়, বরং অন্ধকারময় পতনের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।
