জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে উঠেছে নিরপেক্ষতা ও বৈষম্যের অভিযোগ।
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়, বরং দল ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শাপলা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা আবারও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন,
ইসি শাপলার পরিবর্তে তাদের কাপ-পিরিচ, থালাবাটি কিংবা উটপাখির মতো প্রতীক দিতে চাইছে— যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয় বরং ‘হাস্যকর’।
এনসিপির দাবি, শাপলা প্রতীকের ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই, তবে ইসি ইচ্ছাকৃতভাবে দলটিকে দুর্বল করার কৌশল নিচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রতীক নির্বাচন সবসময় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
শাপলা প্রতীক জাতীয় জীবনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও আবেগীভাবে যুক্ত হলেও, ইসি এই প্রতীক না দিয়ে বিকল্প হিসেবে যেসব প্রতীক প্রস্তাব করেছে, সেগুলোকে এনসিপি ‘অবমাননাকর’ বলেই অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন,
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় প্রতীকের উপাদান থেকে প্রতীক দেওয়া হলেও এনসিপির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে।
এনসিপি জানিয়েছে, তারা প্রতীক সংকট সমাধানে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালাবে।
একইসঙ্গে তারা আওয়ামী লীগ আমলে নিবন্ধন পাওয়া কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের দাবি তুলেছে।
এনসিপি আরও অভিযোগ করেছে, ‘জাতীয় লীগ’ নামে একটি অচেনা দল নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে, অথচ তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কোথাও দৃশ্যমান নয়।
বিষয়টি এনসিপিকে আরও সন্দিহান করেছে যে নির্বাচন কমিশন আসলেই স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে কিনা।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রতীক বিতর্ক নতুন নয়।
তবে এবারকার ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও গণতন্ত্রের ন্যূনতম ভিত্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা যেখানে আগেই দুর্বল, সেখানে এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও সংকটে ফেলতে পারে।
প্রতীক শুধু নির্বাচন নয়, জনগণের আবেগ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীকও বটে।
তাই এটিকে অবজ্ঞা করা কিংবা ‘হাস্যকর’ বিকল্প দেওয়া আসলে রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করারই ইঙ্গিত বহন করে।
