চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের অতীত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি একসময় যুদ্ধাপরাধীর আইনজীবী ছিলেন, আজ রাষ্ট্রীয় পদে থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। এই নিয়োগ কি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী নয়? রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ—বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রক্ষায়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পঞ্চাশোর্ধ যাত্রায় জাতি আজ এক নতুন সংকটের মুখোমুখি। এই সংকট আর্থিক বা কূটনৈতিক নয়, বরং নৈতিক ও আদর্শিক—বিচারব্যবস্থার পবিত্রতার সংকট। এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক বিতর্কিত ব্যক্তি—চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
একসময় যিনি জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন এবং কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আলোচিত হন, সেই তাজুল ইসলাম আজ রাষ্ট্রের সংবেদনশীল বিচারিক পদে আসীন।
প্রশ্ন উঠছে—যে ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অতীতে কলঙ্কিত, তিনি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ও জনগণের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন?
তাজুল ইসলামের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকেই জন্ম নিয়েছে বিতর্ক।
নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নৈতিকতার যে মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত ছিল, তা এখানে উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক স্বার্থ, ব্যক্তিগত আনুগত্য ও বিদেশি স্বার্থবাদী প্রভাবেই এই পদে তার নিয়োগ হয়েছে বলে বহু আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন।
বিচারব্যবস্থা যখন আস্থার সংকটে ভুগছে, তখন এমন একজন অতীতদুষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় পদে বসানো মানে জনমানসে আরও অবিশ্বাস ও বিভ্রান্তি তৈরি করা।
সম্প্রতি তাজুল ইসলাম এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেখে মনে হচ্ছে তিনি আদালতের রায়ের আগেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজানো মামলাকে ঘিরে তার মন্তব্য স্পষ্টতই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দেয়।
একজন চীফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নিরপেক্ষ থাকা, কিন্তু তিনি যেন রায় ঘোষণার আগেই একপক্ষের হয়ে অবস্থান নিচ্ছেন।
এতে বিচার প্রক্রিয়া ও সংবিধান—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতির বিবেকের সামনে প্রশ্ন
যে ব্যক্তি একসময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের আইনজীবী ছিলেন, তিনিই আজ রাষ্ট্রের পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন—এ দৃশ্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর যে বাংলাদেশ “ন্যায়, সত্য ও মানবতা”-র ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেখানে এমন ব্যক্তির উপস্থিতি জাতির বিবেককে আঘাত করছে।
বাংলাদেশের জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—“ন্যায়বিচারের নামে অন্যায় নয়।”
মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রক্ষায় জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ।
তারা বুঝতে পেরেছে,
ন্যায়বিচারের নামে একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের খেলা চলছে—যেখানে লক্ষ্য শেখ হাসিনার মতো ঐতিহাসিক নেত্রীকে নৈতিকভাবে কোণঠাসা করা।
বিচারব্যবস্থা কোনো ব্যক্তির হাতিয়ার নয়, এটি জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান।
চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নিয়োগ ও কর্মকাণ্ড বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা, সংবিধানের মর্যাদা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে।
তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ আজ এক কণ্ঠে বলছে—
“রুখে দাঁড়াও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দোসরদের বিরুদ্ধে, রক্ষা করো বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।”
