শাহবাগে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অগ্নিকাণ্ড। ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হতাহতের খবর নেই। আগুনের কারণ এখনও অজানা।
রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) প্রাঙ্গণে হঠাৎ লাগা আগুনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মাঝে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১টা ১৪ মিনিটে আগুন লাগার ঘটনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানানো হয়। দ্রুতই ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাত্র ১৮ মিনিটের প্রচেষ্টায় ১১টা ৩২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করলেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ গণমাধ্যমকে জানান যে খবর পাওয়ার পরপরই নিকটস্থ ইউনিটগুলোকে শাহবাগে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন:
“শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ৭টি ইউনিট পাঠাই। আগুনটি এ ব্লকের তৃতীয় তলায় ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তদন্তের মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের বর্ণনা
শাহবাগ অঞ্চলের পথচারী ও স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে ফুটওভার ব্রিজের পাশ থেকে হাসপাতালের এ ব্লকের জানালা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
এরই মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। কেউ কেউ ধোঁয়ার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন:
“আমরা প্রথমে ধোঁয়া দেখে ভাবছিলাম ভেতরে কিছু পুড়ছে। পরে দেখি ফায়ার সার্ভিস এসে দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।”
ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো দ্রুত পৌঁছানোর ফলে আগুন বড় আকার ধারণ করতে পারেনি। হাসপাতালের রোগী
এবং স্টাফদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হয়।
হাসপাতলের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ব্লকের তৃতীয় তলায় কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতি পরবর্তী তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা হবে। জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য সার্ভিস চালু রয়েছে
এবং রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেবে।
ঘটনাস্থলে যানজট ও পরিস্থিতি
অগ্নিকাণ্ডের কারণে শাহবাগের যান চলাচলে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
