বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিঙ্গাপুর থেকে ভারতের নন-বাসমতি চাল আমদানি করবে সরকার। সিঙ্গাপুরের সরবরাহকারীর মাধ্যমে কেনা হবে চাল, জানালেন অর্থ উপদেষ্টা।
চাল বাজার স্থিতিশীল রাখতে সিঙ্গাপুর থেকে ভারতের থেকে নন-বাসমতি আমদানির সিদ্ধান্ত
দেশের বাজারে চালের দাম অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় সরকার পুনরায় নন-বাসমতি চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন,
“চালের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আবার বাড়ছে। তাই যেকোনোভাবে যেন দাম না বাড়ে, সে জন্য সরকার নন-বাসমতি চাল আমদানির দিকে যাচ্ছে।”
ভারত থেকেই আসবে নন-বাসমতি চাল
কোন দেশ থেকে চাল আনবে—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা জানান, চাল আসবে ভারত থেকে।
তবে সরাসরি নয়—চাল আমদানির প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মধ্যস্থতা করবে।
অর্থ উপদেষ্টার ব্যাখ্যা:
“আমরা তো কারও ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারি না—ভারত, থাইল্যান্ড বা মিয়ানমার—যেখান থেকেই আসুক, আমরা দেখব মান, দাম ও সময়মতো সরবরাহ।”
সরবরাহকারীর দেশ সিঙ্গাপুর হলেও পণ্য উৎপত্তি ভারত হওয়ায় আমদানিতে খরচ কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক থাকবে বলে সরকারি হিসাব বলছে।
বাজারে কেন এত অস্থিরতা?
বাজারে চালের দামের সাম্প্রতিক ওঠানামার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে—
- অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া
- মজুতকারীদের অতিরিক্ত দখলদারিত্ব
- নতুন মৌসুমের ধান সংগ্রহে বিলম্ব
- আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি
সরকার মনে করছে, ভারতীয় নন-বাসমতি চাল দ্রুত ও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাবে—যা বাজারকে শীতল করতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে “বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা জরুরি”
খাদ্যনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের চাল সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে ভারত-নির্ভর।
তাদের মতে—
- একক উৎসের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ
- রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ফের সংকট দেখা দিতে পারে
- বাংলাদেশকে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারকেও সমান্তরাল উৎস হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মান ও সরবরাহ সুবিধা বিবেচনায় এবার ভারতের নন-বাসমতি চাল সবচেয়ে উপযোগী।
সিঙ্গাপুরের সরবরাহকারী কেন?
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
- সিঙ্গাপুরের এই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক সুনাম ভালো
- তাদের বিতরণ নেটওয়ার্ক দ্রুত কাজ করে
- ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর চুক্তি রয়েছে
- বাংলাদেশে আগেও খাদ্যশস্য সরবরাহ করেছে সফলভাবে
এ কারণে সরাসরি ভারতীয় কোম্পানির বদলে সিঙ্গাপুরের মধ্যস্থতাকারীকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
বাজারে এর প্রভাব কী হতে পারে?
খাদ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে—
- ডিসেম্বরের মধ্যেই কয়েক দফায় চাল দেশে পৌঁছাবে
- বাজারে সরবরাহ বাড়লে পাইকারি ও খুচরা—দুই স্তরেই দাম কমবে
- মজুতদার ও দালালদের প্রভাব কমে আসবে
এছাড়া সরকার মাঠপর্যায়ে বাজার মনিটরিং আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছে।
