রাজশাহী প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের হুমকি দিতে এসে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালাল এনসিপি নেতারা। ঘটনার নিন্দা জানালো সাংবাদিক সমাজ।
রাজশাহী প্রেস ক্লাবে আজ দুপুরে ঘটে গেল একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ‘বাঘের মতো’ এসে ‘বিলাইয়ের মতো’ পালিয়ে গেলো এনসিপির (ন্যাশনাল কনসেন্সাস পার্টি) কয়েকজন স্থানীয় নেতা। সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করলেও পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে না গেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে তারা।
ঘটনাটি মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও পুরো পরিবেশে তৈরি হয় উত্তেজনা, ক্ষোভ এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন।
ঘটনার বিবরণ: গর্জন নিয়ে প্রবেশ, নিঃশব্দে প্রস্থান
সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুর ১টার দিকে ৫–৬ জন এনসিপি সমর্থক ও স্থানীয় নেতা প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে। তারা রাজশাহীতে এনসিপি বিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশকারী কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চান এবং তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাষায় ‘সতর্ক’ থাকার হুমকিও দেন।
সাংবাদিকরা শান্তভাবে আলোচনার অনুরোধ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসময় প্রেস ক্লাবের ভেতরে উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চাপের মুখে পড়তেই এনসিপি নেতারা দ্রুত বাইরে বের হয়ে যান এবং পরে আর কেউ ঘটনাস্থলে ফিরে আসেননি।
সাংবাদিকদের ক্ষোভ: গণমাধ্যমের ওপর ‘চাপ সৃষ্টি’র নতুন কৌশল
রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য কাশেম আলী বলেন—
“সাংবাদিকদের ভয় দেখাতে চাওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের নৈতিক দেউলিয়াপনাই প্রকাশ করে। প্রেস ক্লাব কোনো পক্ষের বাহুবল দেখানোর জায়গা নয়।”
আরেক সাংবাদিক মোকছেদুর রহমান বলেন—
“প্রতিবেদন চাপা দিতে বা দিক বদলাতে এভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে।”
এনসিপির পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য
এনসিপির এক স্থানীয় নেতা, পরিচয় প্রকাশ না করে, জানিয়েছেন যে এটি “ভুল বোঝাবুঝি” ছিল। তাদের মতে, “সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।”
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন—
“হুমকিমূলক ভাষা, আগ্রাসী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টাই পুরো ঘটনাকে পরিষ্কার করে।”
প্রেস ক্লাবের নিন্দা: নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
রাজশাহী প্রেস ক্লাব দ্রুত এক বিবৃতিতে জানায়—
জুনিয়র বা সিনিয়র—কোনো সাংবাদিককেই হুমকি দেওয়া যাবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়:
- রাজনৈতিক নেতাদের আচরণের কারণে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ
- সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে জনগণ তথ্য বঞ্চিত হবে
- ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
ঘটনার প্রভাব: এনসিপির ভাবমূর্তিতে ধাক্কা
রাজশাহীতে এনসিপির কর্মকাণ্ড নিয়ে যে বিতর্কিত আলোচনা চলছিল, আজকের এই ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে।
গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে—
“যে দল গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত প্রচার পেতে চায়, সে দল ইতিমধ্যে জনআস্থা হারিয়েছে।”
সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘটনাটি দ্রুত আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই লিখেছেন—“রাজশাহীর সাংবাদিকদের সামনে বাঘ হওয়া যায় না; সত্যের কাছে গিয়ে সবাই বিলাই হয়ে যায়।”
