প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। মোট গ্রেপ্তার ২৮।

প্রথম আলো–ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় নতুন অগ্রগতি

দেশের শীর্ষ দুই দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। এই ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান মঙ্গলবার (বেলা সোয়া ১১টার দিকে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয়
ডিবি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন হলেন—
- আব্দুর রহমান (৩০) – নোয়াখালী
- মো. জান্নাতুল নাঈম (২১) – রংপুর
- মো. ফয়সাল আহমেদ (২৪) – চাঁদপুর
- ক্বারী মুয়াজ বিন আব্দুল রহমান (৩৩) – শরীয়তপুর
- জুবায়ের হোসাইন (২১) – নোয়াখালী
- মো. আলমাস আলী (২৯) – ময়মনসিংহ
- জুলফিকার আলী সৌরভ (২২) – ঢাকা
- নিয়াজ মাহমুদ ফারহান – ভোলা
- মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম (২২) – রাজশাহী
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হামলার পেছনের পরিকল্পনাকারী ও অর্থের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মোট শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চিত্র
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে—
- ১৯ জনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়
- আজ গ্রেপ্তার হলো আরও ৯ জন
পুলিশ জানিয়েছে, আগের গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্তত ১৩ জন লুটপাটে এবং ৪ জন সরাসরি হামলায় জড়িত ছিল। অন্যদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারদের ছবি প্রকাশ
তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএমপি গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জনের ছবি প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত ছবিতে কয়েকজনকে হামলার সময় ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করেই হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
কীভাবে ঘটেছিল হামলা
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী,
গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি সংঘবদ্ধ দল পরিকল্পিতভাবে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা—
- ভবনে ভাঙচুর চালায়
- অফিসের বিভিন্ন সামগ্রী লুটপাট করে
- একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগ করে
- আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে বাধা দেয়
ওই রাতেই ছায়ানট ভবনেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটে।
গণমাধ্যমের ওপর হামলায় উদ্বেগ
দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমে এমন হামলার ঘটনায় দেশ-বিদেশে তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে,
“গণমাধ্যমে হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ নয়, এটি পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি।”
পুলিশের বক্তব্য
ডিএমপি জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,
“এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত। আমরা এর পেছনের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”
নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ
ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ টহল বাড়ানোসহ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের মতো শীর্ষ সংবাদমাধ্যমে হামলার ঘটনা দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। আরও ৯ জন গ্রেপ্তার হওয়ায় তদন্তে অগ্রগতি এলেও হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখনও সরব সাংবাদিক সমাজ।
আগামী দিনে তদন্তের ফলাফল ও বিচারিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী।
