১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ লন্ডন ছাড়বেন তিনি, ঢাকায় গণসংবর্ধনার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টা) তিনি হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার অবতরণ করার কথা রয়েছে। তার সঙ্গে দেশে ফিরছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি দেখছে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে বরণ করে নিতে ঢাকায় স্মরণকালের অন্যতম বড় গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি রাজধানীর কুড়িল সংলগ্ন পূর্বাচল হাইওয়ে এক্সপ্রেস এলাকায় যাবেন। সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে মূল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
অতীতের সব সমাবেশ ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা
দলীয় নেতাদের আশা, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেবেন।
অংশগ্রহণের দিক থেকে এটি অতীতের সব রাজনৈতিক সমাবেশ ও সংবর্ধনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিও প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দলটির মতে, এই জনসমাগম রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।
নিরাপত্তা জোরদার, প্রশাসনিক অনুমতি সম্পন্ন
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিটগুলো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করছে।
সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতিও পেয়েছে দলটি।
মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে দফায় দফায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতির অগ্রগতি দেখছেন।
প্রবাস জীবন ও দেশে ফেরার প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৮ সালে কারামুক্ত হয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান।
এরপর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার কারণে এতদিন তার দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি।
তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান একাধিকবার দেশে এলেও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার প্রত্যাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি ও দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে।
আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
