নব্বইয়ের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর প্রযোজক ও সাবেক এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ মারা গেছেন। বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক প্রভাবশালী নামের বিদায়
নব্বই দশকের ব্যবসাসফল ও আলোচিত চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর অন্যতম প্রযোজক, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও আওয়ামী লীগ নেতা সুকুমার রঞ্জন ঘোষ আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
গতকাল সোমবার ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ও ঢালিউডে যুগান্তকারী অবদান
সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ছিলেন আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড-এর অন্যতম প্রযোজক। তার প্রযোজনায় নির্মিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমাটি শুধু ব্যবসাসফলই নয়, বরং ঢালিউডে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
এই সিনেমার মাধ্যমেই বাংলা চলচ্চিত্র পায় জনপ্রিয় জুটি সালমান শাহ ও মৌসুমীকে, যারা পরবর্তী সময়ে দেশের সিনেমায়
সুপারস্টার হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেন। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে এবং দীর্ঘদিন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়।
একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমার নেপথ্য কারিগর
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছাড়াও সুকুমার রঞ্জন ঘোষের প্রযোজনায় নির্মিত বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকমহলে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
**‘স্বজন’, ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’, ‘লড়াই’, ‘অমর সঙ্গী’, ‘বিয়ের ফুল’**সহ আরও অনেক চলচ্চিত্র।
তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে মানসম্মত ও ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনীতি ও সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
চলচ্চিত্রাঙ্গনের বাইরে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। পাশাপাশি তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক
এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
চলচ্চিত্র শিল্পের নীতি-নির্ধারণ ও সাংগঠনিক উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তাকে চলচ্চিত্র শিল্পের একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করছে।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন।
সম্প্রতি তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
ধানমন্ডির বাসায় অবস্থানকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোক ও প্রতিক্রিয়া
চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, সুকুমার রঞ্জন ঘোষের মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠনটি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
