বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ইন্তেকাল করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
ভোরে মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ফোন করে তাঁকে বলেন, “আম্মা আর নেই।”
এর আগে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, সকাল ছয়টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশে ছিলেন।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও চিকিৎসা ইতিহাস
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
মুক্তি পাওয়ার পর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে
দেশে ফেরেন তিনি। তবে বয়সজনিত দুর্বলতা, লিভার, কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা তাঁকে ক্রমেই দুর্বল করে তোলে।
সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় এক মাসেরও
বেশি সময় তিনি সেখানে নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
জানাজার সম্ভাব্য সময় ও স্থান
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এ বিষয়ে পরিবারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়সূচি জানানো হবে। জানাজায় দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক ও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘দেশনেত্রী’ থেকে ইতিহাসের পাতায়
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীদের একজন। তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির নেতৃত্বে তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।
সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দেশনেত্রী’, আর রাজনৈতিক দৃঢ়তার কারণে পরিচিত ছিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে।
তাঁর মৃত্যুতে বিএনপিসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ-বিদেশের নেতৃবৃন্দ শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন।
জাতীয় জীবনে শোকের ছাপ
খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষতি নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মের রাজনীতিতে আলোচিত হয়ে থাকবে।
