সাকিব ও মাশরাফির বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মন্তব্য ইশরাক হোসেনের; বিসিবি নির্বাচন নিয়েও তোলেন প্রশ্ন।
সাকিব-মাশরাফির মামলা বিশ্বাসযোগ্য নয়: ইশরাক
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন বলেছেন, জাতীয় দলের সাবেক দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা–র বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গণহত্যার মামলা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তিনি মনে করেন, এই দুই ক্রিকেটারকে রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, দেশের ‘অ্যাসেট’ হিসেবে দেখা উচিত।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইশরাক হোসেন এসব মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য ঘিরে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
‘তারা দেশের সম্পদ’
সাক্ষাৎকারে ইশরাক বলেন, “তারা ক্রিকেটার এবং শুধু কোনো যেন-তেন ক্রিকেটার না, তারা আমাদের দেশের অ্যাসেট। আমি তাদের ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, জনগণ ইতোমধ্যে একপ্রকার জবাব দিয়ে দিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা হয়েছে, সেটি তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। “আমার কাছে মনে হয়নি, তারা গিয়ে কোনো অর্ডার ক্যারি আউট করেছে বা নিজের হাতে বন্দুক নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে,”—যোগ করেন তিনি।
ইশরাকের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার বক্তব্যকে সমর্থন করলেও, আবার কেউ কেউ বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেক্ষাপট: মামলার পর পরিস্থিতি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে
তিনি জনসম্মুখে খুব একটা দেখা দেননি। অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাকিব আল হাসানের নামেও একাধিক মামলা হয়।
একই কারণে তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। দুই ক্রিকেটারই একসময় সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মাশরাফি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাকিবও নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণেই তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
বিসিবি নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর সর্বশেষ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, বিসিবির কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়।
তার দাবি, জেলা প্রশাসকরা কাউন্সিলর নিয়োগ দেন—যা তার ভাষায় “মহাদুর্নীতি, বাণিজ্য ও পক্ষপাতিত্বমূলক প্রক্রিয়া।
” তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের সিন্ডিকেট বোর্ডে বসানোর চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া যায় না।
তবে নিজে বোর্ড রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। “আমি একজন কাউন্সিলর হলেও কখনো বোর্ডে আসব না।
আমার বোর্ডে আসার সময় নেই। আমি ফুলটাইম রাজনীতি করব,”—বলেন ইশরাক। তিনি চান, যারা ফুলটাইম ক্রীড়া সংগঠক,
তারাই বোর্ড পরিচালনায় আসুক এবং প্রয়োজনে তিনি তাদের সহায়তা করবেন।
রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
ইশরাক হোসেনের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা তৈরি করেছে, তেমনি ক্রীড়াঙ্গনেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের দুই সাবেক অধিনায়ককে
‘জাতীয় সম্পদ’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মামলার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এমন মন্তব্য জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে ক্রীড়াপ্রেমী ও রাজনৈতিক মহলের।
