সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের, কোনো দল বা ব্যক্তির নয়—ঢাকা সেনানিবাসে দরবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য।
সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়—এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সশস্ত্র বাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব।
রোববার ঢাকার সেনানিবাসে আয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত।
তাই এ বাহিনীর কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সেনাবাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা অটুট রাখা।”
অতীতের বিতর্ক ও পিলখানা প্রসঙ্গ
বক্তব্যে তিনি অতীতের কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষ করে পিলখানা হত্যাকাণ্ড-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনাটি সেনাবাহিনীর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।
তার মতে, পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
নির্বাচন ও জাতীয় দায়িত্বে সেনাবাহিনী
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।
তিনি ভবিষ্যতের নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেনাবাহিনীর আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আধুনিকায়ন ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
সেই সময় থেকে বাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও দৃঢ়তা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কোনো শক্তিই পরাজিত করতে পারবে না।
শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকারের সময় এই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছিল।
তার মতে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সেনাবাহিনীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্কার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি খাতেই সংস্কার আনা হবে। জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ঘোষিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
