বিএনপি ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। ১২ মে নির্বাচন, মনোনয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানুন।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী ঘোষণা: বিস্তারিত রিপোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এর আগে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর করেন।
ঘোষিত প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা
ঘোষিত তালিকায় রয়েছেন অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের সমন্বয়। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন—
সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, নিপুণ রায় চৌধুরী, নিলুফার চৌধুরী মনি, জেবা আমিন খান, ফাহমিদা হক, সুবর্ণা শিকদার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা প্রমুখ।
এই তালিকায় দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেত্রীদের পাশাপাশি পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ নেতৃত্বও স্থান পেয়েছেন।
নির্বাচন সূচি ও প্রক্রিয়া
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী:
- মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২১ এপ্রিল
- যাচাই-বাছাই: ২২–২৩ এপ্রিল
- আপিল: ২৬ এপ্রিল
- আপিল নিষ্পত্তি: ২৭–২৮ এপ্রিল
- প্রতীক বরাদ্দ: ৩০ এপ্রিল
- ভোটগ্রহণ: ১২ মে
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সে ক্ষেত্রে ২৯ এপ্রিলেই ফল নির্ধারিত হতে পারে।
আসন বণ্টন চিত্র
সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন অনুযায়ী:
- বিএনপি জোট: ৩৬টি
- জামায়াত জোট: ১৩টি
- স্বতন্ত্র: ১টি
এই বণ্টন সংসদের দলীয় প্রতিনিধিত্বের অনুপাত অনুসারে নির্ধারিত হয়েছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও প্রতিযোগিতা
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র ৩৬টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৯০০ মনোনয়নপ্রত্যাশী আবেদন করেন। দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকারে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের প্রার্থীরা।
মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বোর্ডে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ নেতারা।
প্রার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়—মনোনয়ন পেলে এবং না পেলে তারা কী করবেন। অধিকাংশই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
মনোনয়ন ফরম ও অংশগ্রহণ
- মনোনয়ন ফরমের মূল্য: ২,০০০ টাকা
- জামানত: ৫০,০০০ টাকা
দলীয় নেতাদের পরিবার সদস্য, নারী নেত্রী, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী ও তরুণ রাজনীতিকদের অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক করেছে।
নারী আসনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৯৭৩) সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ১৫টি। ধাপে ধাপে তা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫০টিতে। এই আসনগুলো নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও নারীনেতৃত্বের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন নজর থাকবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় এবং শেষ পর্যন্ত কারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
