মেধাভিত্তিক দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গঠনে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত।
মেধানির্ভর প্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার
Tarique Rahman বলেছেন, একটি উন্নত ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, বর্তমান সরকার এমন মানবসম্পদ গঠনে কাজ করছে যারা হবে আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল এবং দায়িত্বশীল।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে BIAM Foundation-এর তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিয়াম ফাউন্ডেশন: দক্ষতা উন্নয়নের কেন্দ্র
প্রধানমন্ত্রী বিয়াম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্থাটি প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রশিক্ষণভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে শুধু নীতিনির্ধারণই যথেষ্ট নয়, দক্ষ বাস্তবায়নকারীও প্রয়োজন। আর সেই জায়গায় বিয়াম ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।
গণঅভ্যুত্থান ও জনমতের প্রতিফলন
July-August 2024 Bangladesh uprising-এর প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অভ্যুত্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ।
দীর্ঘদিন ধরে জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে এসেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে বদ্ধপরিকর এবং প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রশিক্ষণ ও জনমুখী প্রশাসনের গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আমলাতন্ত্রকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নিজেদের জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, “একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও পরিদর্শন অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিয়াম ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন
এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।
অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জনপ্রশাসনে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেধানির্ভর মানবসম্পদ গড়ে উঠলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে—যা দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেধানির্ভর, দক্ষ এবং আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গঠন এখন সময়ের দাবি। সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক
এবং জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে—যা উন্নত বাংলাদেশের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
