মিরপুর থানার মামলায় সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ, রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ।
ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল রাখলেন আপিল বিভাগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সোমবার (১১ মে) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত কারামুক্ত থাকার আইনি সুযোগ বহাল থাকছে সাবেক এই সংসদ সদস্যের জন্য।
আপিল বিভাগের আদেশ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল আবেদন করেছিল। তবে শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখেন এবং মামলার রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করলেও আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জামিন স্থগিত করেননি।
আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগের এই আদেশ মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গ্রেপ্তারের পটভূমি
২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে রাজধানীর একাধিক থানায় এবং হবিগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
এসব মামলার মধ্যে মিরপুর থানার মামলায় তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করে একটি রুল জারি করেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে বিষয়টি উচ্চ আদালতে ওঠে।
রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট
ব্যারিস্টার সুমন জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি
এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আদালতের এই আদেশ রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক মামলায় জামিনের প্রশ্নে আদালতের অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও বিশ্লেষণ শুরু হতে পারে।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন মামলার রুল নিষ্পত্তির শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রুল নিষ্পত্তির সময় আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখবেন নাকি নতুন কোনো নির্দেশনা দেবেন, সেটিই হবে পরবর্তী মূল বিষয়।
এদিকে ব্যারিস্টার সুমনের সমর্থকরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
