মা পদক ২০২৬ অনুষ্ঠানে স্বামী হারানোর পর কেন দ্বিতীয় বিয়ে করেননি, তা নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করলেন অভিনেত্রী ববিতা।
কেন দ্বিতীয় বিয়ে করেননি, আবেগঘন ব্যাখ্যায় ববিতা
ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা জানিয়েছেন, একমাত্র ছেলে অনিকের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই স্বামীর মৃত্যুর পর আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি তিনি। বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মা পদক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের সংগ্রাম, মাতৃত্ব ও একাকিত্বের গল্প তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলা চলচ্চিত্রের এই বরেণ্য অভিনেত্রী।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননা ‘মা পদক ২০২৬’ প্রদান করা হয়। বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
মাতৃত্বই নারীর পূর্ণতা: ববিতা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ববিতা বলেন, “একটি নারীর পূর্ণতা আসে তার মাতৃত্ব দিয়ে। সন্তান একজন মায়ের জীবনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।”
তিনি জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর জীবনে অনেক মানুষ এসেছিলেন, পরিবার থেকেও দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চাপ ছিল। কিন্তু তিনি শুধুই সন্তানকে ঘিরে নিজের জীবন সাজিয়েছেন।
আবেগঘন কণ্ঠে ববিতা বলেন, “অনিক পিতৃহারা হওয়ার পর আমার জীবনে অনেকেই আসতে চেয়েছিলেন। পরিবারেরও সম্মতি ছিল। কিন্তু আমি শুধু আমার সন্তানের মাঝেই নিজেকে খুঁজে নিয়েছি।”
স্বামী হারানোর পর কঠিন জীবনসংগ্রাম
১৯৮২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে বিয়ে করেন ববিতা। প্রায় সাড়ে ছয় বছর পর ১৯৮৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয় তাদের একমাত্র সন্তান অনিক ইসলাম। তবে সুখের সংসারে বড় ধাক্কা আসে ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি, যখন তার স্বামী মারা যান।
এরপর একাই সন্তানকে বড় করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। ববিতা বলেন, “আমি একজন সিঙ্গেল পেরেন্ট হিসেবে অনিকের মা এবং বাবা—দুই ভূমিকাই পালন করেছি।”
তিনি জানান, বর্তমানে তার ছেলে কানাডার একটি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন।
ছেলের সাফল্যকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ছেলেকে নিয়েই জীবনের আলো
ববিতা বলেন, “আজ অনিক অনেক বড় হয়েছে। আমি প্রায়ই কানাডা যাই ওর কাছে থাকতে।
অনিক আমাকে জীবনে চলার পথের আলো দেখিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সন্তানের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চান।
একজন মা হিসেবে নিজের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ছেলেকে ঘিরেই তার সব আনন্দ ও স্বপ্ন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই তার বক্তব্য শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোরআনের আয়াত উল্লেখ
মাতৃত্ব প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতিও টানেন এই অভিনেত্রী। সূরা কাহাফের ৪৬ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।” তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সন্তানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় নেয়ামত।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সফল নায়িকা
বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ২৭৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ববিতা।
দেশের খ্যাতিমান নির্মাতাদের পাশাপাশি কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়–এর সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি।
‘মা পদক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে আরও সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম, নাজনিন হাসান চুমকি,
অভিনেত্রী হিমি ও উপস্থাপিকা ফারহানা ন্যান্সিসহ মোট ১২ জন গুণী ব্যক্তির মা।
