প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দলের এমপিদের নির্বাচনি এলাকায় সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকার ও বিরোধী এমপিদের এলাকায় সমান উন্নয়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং সমন্বিত অগ্রগতিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনি এলাকার মতোই বিরোধী দলের এমপিদের এলাকাতেও সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জনগণ উন্নয়নের সুফল সমানভাবে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সকল নির্বাচনি এলাকায় প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতি অনুসরণ করছে।
রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উন্নয়ন পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দলীয় পরিচয় নয়, বরং এলাকার মানুষের প্রয়োজনই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয়। সরকারদলীয় সদস্যরা যেভাবে নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন, একইভাবে বিরোধী দলের সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘোষণা রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৈষম্যের ধারণা দূর করতেও সহায়ক হবে।
বিনিয়োগ আকর্ষণে সুদের হার পর্যালোচনা
সংসদে অর্থনৈতিক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার সুদের হার পর্যালোচনা করছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতির গতিশীলতা ধরে রাখতে শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ
সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বড় পরিসরে কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৬০ হাজার পরিবারকে
‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে আরও ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরিবেশ রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই ৩ কোটি ১৪ লাখ গাছ লাগানো হবে।
তার মতে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জলাবদ্ধতা দূর করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন পর্যন্ত
৯৫৬ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কৃষি, পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেকসই উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
