বিগত বছরের অবহেলায় দেশের বহু স্কুলের অবকাঠামো বেহাল হলেও শিক্ষার্থীরা শেখা থামায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জুবাইদা রহমান।
অবহেলায় দেশের বহু স্কুলের অবকাঠামো বেহাল, তবুও থেমে নেই শিক্ষার্থীরা: জুবাইদা রহমান
শিক্ষার আলো জ্বলছে জরাজীর্ণ ভবনেও
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থা দীর্ঘদিনের অবহেলায় বেহাল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, অনেক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা গ্রহণ বন্ধ করেনি। একইভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন শোকেসিং’ অনুষ্ঠানের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোর বাস্তবতা তুলে ধরলেন
বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুরবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের জীর্ণ দেয়ালে লেখা একটি বাণী তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না, হয় সে জিতবে, না হলে সে শিখবে”—এই কথাটি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো জাতির জন্যই প্রেরণাদায়ক।
তার মতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ হলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা এখনও অটুট রয়েছে।
ভাঙা ছাদ, খসে পড়া দেয়াল—তবুও চলছে পাঠদান
অনুষ্ঠানে তিনি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আইকুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন,
সেখানে কখনো কখনো শ্রেণিকক্ষের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটে। তবুও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ কমেনি।
বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশই তাদের আরও দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
‘ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী তৈরি হচ্ছে এসব বিদ্যালয়েই’
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্কতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন,
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক তৈরি হতে পারে।
তার ভাষায়, “আজ যেসব শিশু ভাঙা স্কুল ভবনে বসে পড়াশোনা করছে, তাদের মধ্যেই কেউ হয়তো আগামী দিনে বাংলাদেশের নাম বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল করবে।”
তিনি মনে করেন, প্রতিভা বিকাশের জন্য শুধু বড় শহর নয়, গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকাগুলোতেও শিক্ষার সুযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সম্প্রসারণ করতে হবে।
শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে হবে সবার দোরগোড়ায়
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রতিটি শিশুর সমান শিক্ষার অধিকার রয়েছে।
তাই শিক্ষার সুযোগকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিভা খুঁজে বের করা
এবং উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে দেশের অগণিত মেধাবী শিক্ষার্থী জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন প্রদর্শনী পরিদর্শন
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবন ঘুরে দেখেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী
আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে।
