জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে দুই বছরের জন্য নিয়োগ পেলেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস।
জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে জাতীয় মহিলা সংস্থার (জামুস) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে তার নিয়োগ রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৮(১) ও ৮(২) অনুযায়ী আফরোজা আব্বাসকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য তিনি জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সরকারের প্রয়োজনবোধে মেয়াদ পূর্তির আগেই এ নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে।
একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, আফরোজা আব্বাস চাইলে সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারবেন।
অবৈতনিক পদে নিয়োগ
নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে আফরোজা আব্বাসের এ নিয়োগ অবৈতনিক হবে। অর্থাৎ তিনি এ দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো বেতন বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ও পরামর্শমূলক পদ অবৈতনিক রাখার যে প্রচলন রয়েছে, এই নিয়োগও তার আওতাভুক্ত।
কে এই আফরোজা আব্বাস?
আফরোজা আব্বাস বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নারী সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখে আসছেন।
তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে ভূমিকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন।
জাতীয় মহিলা সংস্থার ভূমিকা কী?
জাতীয় মহিলা সংস্থা দেশের নারী উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি
এবং নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটি নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প
এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগ পরিচালনা করে। এছাড়া নারী অধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
নতুন নেতৃত্বে বাড়ছে প্রত্যাশা
নারী সংগঠনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে।
বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে
নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের এই নিয়োগের মাধ্যমে নারী উন্নয়ন খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে
এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন নারী অধিকারকর্মী ও নীতিনির্ধারকরা।
