দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন সাবেক এমপি ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম। তবে অন্য মামলা থাকায় আপাতত মুক্তি মিলছে না।
তিন মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন মমতাজ বেগম
সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম দুটি হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে এই আদেশ দেন।
তবে আদালতের এই আদেশের পরও আপাতত কারামুক্তি পাচ্ছেন না মমতাজ বেগম। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সব মামলায় জামিন না হওয়ায় তাঁকে কারাগারেই থাকতে হবে।
কোন কোন মামলায় জামিন পেলেন?
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলা, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার একটি হত্যা মামলা এবং হরিরামপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছেন।
এর আগে এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে মমতাজ বেগম হাইকোর্টে আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন।
মুক্তি কেন মিলছে না?
মমতাজ বেগমের আইনজীবী মোসা. খায়রুন নেছা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার তিনটি মামলায় জামিন মিলেছে।
এছাড়া আরও একটি মামলায় আগেই তাঁর জামিন বহাল রয়েছে। তবে বাকি দুটি মামলায় জামিন স্থগিত রয়েছে এবং ওই মামলাগুলোর জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টে জারি করা রুলের শুনানি এখনও বাকি।
এ কারণে তিন মামলায় জামিন পেলেও বর্তমানে তাঁর মুক্তির সুযোগ তৈরি হয়নি।
মিরপুরের মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো
আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়
গত ২৪ জুন মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়। ওই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
ফলে অন্যান্য মামলায় জামিন পেলেও এই মামলাসহ অবশিষ্ট মামলাগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর কারামুক্তি সম্ভব নয়।
আদালতে কারা শুনানিতে অংশ নেন?
মমতাজ বেগমের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু।
তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোসা. খায়রুন নেছা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট
মমতাজ বেগম মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সংসদ সদস্য ছিলেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকাও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা এবং অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং বিভিন্ন মামলায় পর্যায়ক্রমে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ হাইকোর্টের এই আদেশ তাঁর
আইনি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও অবশিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কারামুক্তির বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
