ভাটারা থানার একটি মামলায় সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
জুলাইয়ের আরেক মামলায় জেবুন্নেসা আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তিনি এর আগেও একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় নতুন এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালতের আদেশ
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার জেবুন্নেসা আফরোজকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ আবেদনটির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের বিষয় বিবেচনা করে আদালত তাকে ভাটারা থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম আহত হন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভাটারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন আহত রবিউল ইসলাম।
উল্লেখ্য, মামলার এসব অভিযোগ বর্তমানে বিচারাধীন এবং আদালতে এখনও প্রমাণিত নয়।
আগের মামলাগুলোর অবস্থা
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেবুন্নেসা আফরোজকে ২০২৫ সালের ১৬ মে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সর্বশেষ এই মামলায় গত ২৮ জুন ভাটারা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রিফাত আল আফসানী আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
সেই আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার আদালত আদেশ দেন।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান
আদালতের এ আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মামলায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন এবং পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
এ পর্যায়ে আদালতের আদেশ কেবল তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে সীমাবদ্ধ। মামলার অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
পরবর্তী করণীয়
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলে মামলার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর রয়েছে।
