রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সাভার স্মৃতিসৌধে বীরের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন
রোববার সকালের স্নিগ্ধ আলোয় মুখরিত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বর পরিণত হয়েছিল এক গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সেখানে পৌঁছান দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বেদির কাছে পৌঁছে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির স্মরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।
এ সময় সামরিক বাহিনীর একটি চৌকস ও সুসজ্জিত দল দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবককে গার্ড অব অনার প্রদান করে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। বিউগলের করুণ ও সুরময় ধূপছায়া সুরে পুরো পরিবেশ এক আবেগঘন ও ভাবগম্ভীর রূপ নেয়। শহীদদের স্মৃতির প্রতি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে সম্মান জানানোর পর তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রক্ষিত সরকারি দর্শনার্থী বইয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে স্বাক্ষর করেন। এরপর নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে বেলা পৌনে বারোটার দিকে তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
সাংবিধানিক পটপরিবর্তন ও নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ
গত ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে দেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় অথচ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন আসে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এবং চিকিৎসকদের কঠোর পরামর্শকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ মোতাবেক স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন।
এর পরপরই দেশের সর্বোচ্চ অভিভাবকহীনতা রোধে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুসরণ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার ও কার্যভার নিজ কাঁধে তুলে নেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করছে।
শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক ফুলেল শুভেচ্ছা ও শুভকামনা
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, সাংবিধানিক পদাধিকারী এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন। গত শুক্রবার রাতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
অভিনন্দন জানানোর এই তালিকায় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন:
- ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ)
- মো. নূরুল ইসলাম (মাননীয় চিফ হুইপ)
- ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল (অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)
- ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া (সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়)
সাক্ষাৎকালে এই শীর্ষ কর্মকর্তারা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং তার ওপর অর্পিত মহান জাতীয় দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য আন্তরিক সফলতা কামনা করেন।
আগামী দিনের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক বার্তা
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে
বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করার কথা রয়েছে।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির এই ধারাবাহিক শ্রদ্ধা নিবেদন ও রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সাধারণ মানুষের মাঝে নতুনআশার সঞ্চার করেছে।

- ছবি ১: সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণের মুহূর্ত।

- ছবি ২: স্পিকারের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ছবি।
একটি জাতির জীবনে সংকটময় মুহূর্ত আসবেই, কিন্তু সংবিধানের সঠিক প্রয়োগ এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপস্থিতি সেই সংকটকে সহজেই উত্তরণে সাহায্য করে।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা
নিবেদনের মাধ্যমে তার রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের শুভসূচনা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার এই চর্চা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তির রূপরেখা তৈরি করছে।
