বর্তমানে আওয়ামী লীগকে বিভক্ত এবং নেতাকর্মীদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর একটি ভয়াবহ চক্রান্ত চলছে। এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’। বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও বিভেদ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চলছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে চটকদার শিরোনাম দেখা যাচ্ছে— “নেতাদের বিলাসী জীবন”, “বিদেশে মজমাস্তিতে মগ্ন আওয়ামী লীগ নেতারা”, “কর্মীদের কষ্টের মাঝে ভুরিভোজে ব্যস্ত কেন্দ্রীয় নেতারা” ইত্যাদি। অথচ বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতা চরম সংকটের মধ্যে আছেন। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল বা বন্ধ হয়ে গেছে, টার্গেট করে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক নেতা বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে গেছেন। যাঁরা বিদেশে আছেন, তাঁরাও উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন পার করছেন।
কিছুদিন আগে জামিনে মুক্ত এক আওয়ামী লীগ এমপিকেও নিজের এলাকায় নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
৫ আগস্টের পর জঙ্গিগোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পনা করলেও তা সফল হয়নি। তাই এখন মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে নেতাদের সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একাত্তরে রাজাকারদের অপপ্রচারের মতো আজও ষড়যন্ত্রকারীরা একই কৌশল প্রয়োগ করছে।
সব নেতা একরকম নন— এটা যেমন সত্য, তেমনি অধিকাংশ নেতা আজ সংগ্রাম আর আতঙ্কের ভেতরেই আছেন। দেশের ভেতর ও বাইরে, নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব রক্ষায় নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সুতরাং, মিডিয়া ট্রায়ালের ফাঁদে পা না দিয়ে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক রাখতে হবে। ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের আরও সংগঠিত হতে হবে।
