করিডোর চুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
জি. ইসলামঃ
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ ও সংঘাত যেভাবে বাড়ছে, তা আমাদের আরও বেশি করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—যুদ্ধ কখনোই শান্তি বয়ে আনে না। মানবসভ্যতা, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। ১৯৭১ সালে আমরা একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা বলি—আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।
কিন্তু আজ এক বিপজ্জনক চুক্তির মুখোমুখি বাংলাদেশ। কথিত “করিডোর চুক্তি”-র মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। এই চুক্তির আড়ালে মিয়ানমার সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে একটি সরাসরি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি, সংঘর্ষ ও রোহিঙ্গা সংকট এখনো অমীমাংসিত। তার মধ্যে করিডোর চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি স্বার্থ রক্ষা করে দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে একটি নতুন যুদ্ধঝুঁকির দিকে। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের জনগণের কোনো লাভ নেই; বরং এতে দেশের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে।
অবৈধ ইউনুস সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বিপন্ন করছে। তাদের বিদেশনির্ভর নীতির বিরুদ্ধে আজ সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের জনগণ চায় না কোনো যুদ্ধ। আমরা চাই সংহতি, শান্তি ও সম্মানজনক কূটনীতি। তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ।
আমরা যুদ্ধ চাই না—আমরা শান্তি চাই।
এই বার্তা যেন পৌঁছে যায় দেশের প্রতিটি ঘরে এবং প্রতিটি নীতিনির্ধারকের কাছে।
