চেয়ারে শান্ত সেলিনা হায়াৎ আইভী, রাস্তায় শত শত পুলিশ—এই চিত্র কি বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত? আওয়ামী লীগকে রুখবে কে? বিশ্লেষণ করছে আমাদের প্রতিবেদক।
৯ মে, ২০২৫:
রাস্তায় দাঁড়িয়ে এসপি, ওসি সহ শত শত পুলিশ, তাদের সামনে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ। আর এক কোণে চেয়ার টেনে বসে আছেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী—মুখে হাসি, মনে সাহস, চোখে প্রতিরোধের দীপ্তি।
এই দৃশ্য কেবল একটি শহরের রাজনৈতিক নাটক নয়—এটি আওয়ামী লীগ অভ্যন্তরে জমে ওঠা অস্থিরতার প্রতীক। প্রশাসনের শক্তি এবং সাধারণ জনগণের চাপের মাঝে একজন নেত্রী বসে আছেন, যিনি ক্ষমতার বিরুদ্ধে জনগণের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
আইভী এখন প্রতীক?
সেলিনা হায়াৎ আইভী বরাবরই ছিলেন আওয়ামী লীগের ‘ভিতরের ভিন্ন কণ্ঠ’। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন একদিকে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে, আর অন্যদিকে গণমানুষের ক্ষোভ উথলে উঠছে—তখন আইভী যেন হয়ে উঠেছেন গণচেতনার মুখপাত্র।
তার পাশে নেই দলীয় শীর্ষ নেতারা, কিন্তু আছেন জনতা। এই জনতা হঠাৎ করে রাজপথে নামেনি—তারা ক্লান্ত, তারা ক্ষুব্ধ, তারা ‘কথিত উন্নয়ন’ আর দমননীতির চাপে বিপর্যস্ত।
প্রশাসনের মুখোমুখি জনগণ
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে:
👉 এই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবে কে?
রাষ্ট্রযন্ত্র যখন দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তখন সাধারণ জনগণই হয়ে ওঠে শেষ রক্ষাকবচ।
নির্বাচনহীন শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দলীয় স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনতা নিজেই এখন ‘প্রতিরোধ’।
এই দৃশ্য শুধুই নাটকীয়তা নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের এক সম্ভাব্য দিকচিত্র।
জনগণ যখন দাঁড়ায়, তখন চেয়ারে বসে থাকা একজন নারীর হাসিও হয়ে উঠতে পারে আন্দোলনের প্রতীক।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই আওয়ামী লীগকে রুখবে কে?
সম্ভবত উত্তর লুকিয়ে আছে সেই জনতার চোখে, যারা আইভিকে দেখছে—নেতা হিসেবে নয়, প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে।
