বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থের স্ত্রী শেখ শাইরা শারমিনকে বিদেশ যেতে বাধা দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এসবির অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন নিষিদ্ধ—এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা কি কাজ করছে ?
📅 প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৫,
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থের স্ত্রী শেখ শাইরা শারমিন ও তার শিশু কন্যা সোমবার দুপুরে ব্যাংককের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়।
বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য—“এসবির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) অনুমতি ছাড়া” তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
এই ঘটনার পর আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে—এই সিদ্ধান্ত কি নিরাপত্তাজনিত, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নেওয়া?
🧩 প্রেক্ষাপট: শেখ শাইরা শারমিন কে?
শেখ শাইরা শারমিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রভাবশালী পরিবার শেখ পরিবারের একজন সদস্য। তিনি শেখ হেলাল উদ্দীনের কন্যা, যার ঘনিষ্ঠতা ছিল পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
বর্তমান সরকার ও প্রশাসন থেকে শেখ পরিবারের সদস্যদের কার্যত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এর আগে শেখ হেলাল নিজেই দেশ ছেড়েছেন।
⚖️ আইন কি বলে?
সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের নাটকীয় দেশত্যাগের পর, বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ও বিদেশ গমনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন স্পেশাল ব্রাঞ্চের হাতে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে কারও ‘নো ফ্লাই’ তালিকায় পড়া এখন আর শুধু জাতীয় নিরাপত্তা নয়, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
আন্দালিব পার্থের ভাষ্যে—
“আমি আইনের মানুষ। আইন মেনে, যথাযথ অনুমতি নিয়েই পরিবারের সদস্যরা বিদেশ যাবেন।”
🕵️ রাজনৈতিক প্রভাব ও জল্পনা:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু আন্দালিব রহমান পার্থ বর্তমানে সরকারবিরোধী মতাদর্শের একটি উদীয়মান কণ্ঠ, এবং তিনি মধ্যপন্থী বিরোধী জোটে সক্রিয়, তাই শেখ পরিবারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখন সরকারপন্থী কর্তৃপক্ষের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার মেডিকেল চেকআপের জন্য ব্যাংকক যাত্রা ছিল নিছক মানবিক, তা স্বীকার করলেও, ক্ষমতাসীনদের দৃষ্টিতে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে "পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা" বা "নিরাপত্তার প্রশ্ন"।
এটা কি নতুন রাজনৈতিক ‘উপসংহার’ এর ইঙ্গিত?
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে ক্ষমতায় এসেছে এবং যার নেতৃত্বে শুদ্ধি অভিযান ও বিচার প্রক্রিয়া চলছে, তাতে করে এধরনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক প্রতিরোধ অনেকের মতে একটি নতুন ‘নির্বাচনী ছাঁটাই প্রক্রিয়া’র অংশ।
এক্ষেত্রে শেখ পরিবার কিংবা সাবেক সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাওয়ার চেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণ করাই উদ্দেশ্য হতে পারে।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি রাজনৈতিক বার্তা?
যদিও এসবির ক্লিয়ারেন্স বিষয়টিকে প্রশাসনিক নিরাপত্তা বিধি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ‘পলিটিক্যাল মেসেজ’ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্দালিব পার্থের মতো একজন আইনজ্ঞ নেতার পরিবারকেও এই বিধিনিষেধের আওতায় আনা যে বর্তমান সরকার একটি একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের দিকে ধাবিত, সেটারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
