সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে নিহত ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাম্যের মৃত্যু রাজধানীর উন্মুক্ত পার্কগুলোর নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জানুন বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
রাজধানীর অন্যতম ঐতিহাসিক ও উন্মুক্ত উদ্যান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আবারো রক্তাক্ত। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সাম্য (২৫) দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সাম্য স্যার এ এফ রহমান হলের ২২২ নম্বর কক্ষে থাকতেন এবং হল ছাত্রদলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অবসান নয়, বরং আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার নগ্ন চিত্র তুলে ধরে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান একটি উন্মুক্ত, জনসমাগমপূর্ণ এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল। কিন্তু রাতের অন্ধকার নামতেই এই উদ্যান যেন দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। বিগত বছরগুলোতে একাধিক ছিনতাই, যৌন হয়রানি ও হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে এই স্থানকে কেন্দ্র করে। অথচ পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, পুলিশি টহল বা নজরদারির তেমন কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরাবরই দেশের সমাজ-রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালক। সাম্যের মতো একজন সক্রিয় শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হওয়া শুধুই অপরাধ নয়, এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পথেও আঘাত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এখন জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে এমন ঘটনা আবার ঘটবে, এবং আমরা হারাতে থাকবো সম্ভাবনাময় প্রাণ। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে উদ্যানের চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, রাতের টহল বাড়ানো এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করার এখনই সময়।
শাহরিয়ার সাম্য ছিলেন একজন ছাত্র, একজন কর্মী এবং একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। তাঁর এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমাদের সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা এবং নাগরিক নিরাপত্তাহীনতার প্রতিফলন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু সাম্যর পরিবারের জন্য নয়, আমাদের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
