জামালপুরে ৭০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে দুই জামায়াত নেতা আটক। তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকাবাসীর প্রতীকী প্রতিশোধ। ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক যোগসূত্র ও বিশ্লেষণ পড়ুন।

জামালপুরের মাদারগঞ্জে ‘আল আকাবা সমবায় সমিতি’ নামে একটি কথিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার লোপাট এখন দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আর এই আর্থিক দুর্নীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে জামায়াতে ইসলামির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নাম। সর্বশেষ শনিবার দিবাগত রাতে যে ঘটনার অবতারণা ঘটেছে, তা যেন কেবল অর্থ কেলেঙ্কারির নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতীকী লজ্জার প্রতিচ্ছবি।
১৭ মে রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলা সদরের বালিজুড়ি বাজারে ‘আল আকাবা সমবায় সমিতি’র একটি দোকান থেকে মূল্যবান মালামাল সরিয়ে নেয়ার সময় জামায়াতে ইসলামির জামালপুর শহর শাখার আমির মোকাদ্দেস হোসেন ও তার এক সহযোগীকে স্থানীয় জনতা হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়, যার ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
‘আল আকাবা সমবায় সমিতি’ একসময় মুনাফার আশায় হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে। গ্রাহকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত একবছর ধরে অফিস বন্ধ করে সমিতির লোকজন গা ঢাকা দেয়। তাদের দাবি, এই সমিতি আসলে ছিল একটি পরিকল্পিত লুটপাট মেশিন।
আটককৃত মোকাদ্দেস হোসেন স্বীকার করেছেন, তিনি অভিযুক্ত দোকানের অংশীদার। অথচ স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘আল আকাবা’ সমবায় পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্নীতির পেছনে জামায়াতে ইসলামির সক্রিয় যোগসূত্রের অভিযোগ বহুদিন ধরেই উঠছিল। এই ঘটনায় সেই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সত্যতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জনতা কেন দুই নেতার গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরালো? সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি নিছকই প্রতিশোধ বা জনরোষ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতীকীকরণ। জনসাধারণের মাঝে জামায়াতকে ঘিরে একটি দীর্ঘমেয়াদি সন্দেহ ও বিতৃষ্ণা রয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ঘটনায়।
মাদারগঞ্জ থানার ওসি হাসান আল মামুন জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—শুধু দোকান থেকে চুরি নয়, পুরো সমিতির ৭০০ কোটি টাকার হদিস কি আদৌ প্রশাসন বের করতে পারবে? দায় কি শুধুই দু’জনের?
এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামি কেন্দ্রীয়ভাবে এখনও কোনো বক্তব্য দেয়নি। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নেই তেমন প্রতিক্রিয়া। এটি কি কৌশলগত নীরবতা? নাকি দলের ভেতর থেকেই সত্য লুকানোর চেষ্টা?
