মাত্র দেড় মাসে শেয়ারবাজার থেকে উধাও ২৪ হাজার কোটি টাকা! ইউনুস প্রশাসনের নীরবতায় চলছে সুপরিকল্পিত লুটপাট। বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে চলছে নজিরবিহীন দরপতন—মাত্র দেড় মাসে উধাও হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। বিনিয়োগকারীরা যখন দিশেহারা, তখন প্রশ্ন উঠছে: এটি কি কেবল বাজার চক্রের অংশ, নাকি একটি
সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সংঘটিত সুপরিকল্পিত লুটপাট?
বর্তমান “নিরপেক্ষ” ইউনুস প্রশাসনের নীরবতা এবং নিস্ক্রিয়তা এখন নানা মহলে আলোচনার বিষয়। কারণ, দেশের শেয়ারবাজারে যখন এমন ভয়াবহ দরপতন চলছে, তখন সরকারপক্ষ থেকে কোনো কার্যকর হস্তক্ষেপ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিলক্ষিত হয়নি। বরং, একটি চিহ্নিত প্রশাসনিক চক্রের সহায়তায় দরপতনের আড়ালে চলছে অর্থ লোপাটের মহোৎসব।
ইউনুস-ঘনিষ্ঠ নিয়ন্ত্রক মহলের প্রতি আঙুল উঠছে বারবার। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের ‘তদারকি’ এখন কার্যত অদৃশ্য। বাজারের অস্বাভাবিক আচরণ এবং নিরবিচারে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বলছে—এটি নিছক চাহিদা-যোগানের ব্যাপার নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লুটপাটের ফল।
বাজারে এমন অস্থিরতার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ অর্থ তুলে নিচ্ছে, কেউ আবার নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অথচ গত দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই বাজার ছিল যথেষ্ট স্থিতিশীল, যেখানে বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও সক্রিয় নিয়ন্ত্রণ কার্যকর ছিল।
ইউনুস প্রশাসন ‘নিরপেক্ষতা’র বুলি আওড়ালেও বাস্তবে তা পরিণত হয়েছে নিষ্ক্রিয়তায়। এমন সংকটকালে প্রশাসনের এমন অস্বাভাবিক নিরবতা মাফিয়া-চক্রের প্রতি মৌন সমর্থন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। নির্বাচনের আগে যে “সুশাসন” ও “সংস্কারের” প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন এখন একটি ভয়াবহ আর্থিক সংকট।
এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাজারে আস্থাহীনতা আরও বাড়বে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। তাই এখনই প্রয়োজন:
- বাজার পর্যবেক্ষণে স্বাধীন এবং সক্রিয় টাস্কফোর্স গঠন
- দোষী চক্রের দ্রুত শনাক্তকরণ ও বিচারের আওতায় আনা
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় স্বচ্ছ নীতিমালা
শুধু রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নামে নিষ্ক্রিয়তা পুঁজি করে যদি প্রশাসন অর্থনীতির ভিত্তি নড়বড়ে করে দেয়, তবে তা হবে একটি জাতীয় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
