বিদেশি বিনিয়োগের নামে চলছে দেশবিক্রির মহোৎসব—ইউনুস ও বিডা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই ‘উন্নয়ন’ আসলে কী? বিশ্লেষণধর্মী কলামে উন্মোচিত হলো কর্পোরেট আগ্রাসনের নগ্ন চিত্র।

বাংলাদেশের উন্নয়ন কথাটি আজ আর নির্দোষ কোনো শব্দ নয়—এটি এখন এক ভয়াবহ চক্রান্তের ঢাল, যার আড়ালে চলছে দেশের শ্রম, সম্পদ, মানবিক স্বপ্নের নির্বিচার লুটপাট। এই চক্রান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত এক ‘উন্নয়ন উদ্যোক্তা’ ড. ইউনুস এবং তার ছায়াসঙ্গী, বিডার বর্তমান চেয়ারম্যান। এই দুজন মিলে যে নব্যউপনিবেশিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, তা শুধু নীতিনৈতিকতারই অবমাননা নয়—এটি একটি জাতির আত্মার উপর ঠেলে দেওয়া নিষ্ঠুর কর্পোরেট চাবুক। ‘বিদেশি বিনিয়োগ’ এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির মুখ্য মন্ত্র।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বিনিয়োগ কার জন্য, এবং কাদের ক্ষতি করে এই পুঁজি প্রবেশ করে?
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, ইউনুস এবং বিডা চেয়ারম্যান এই বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন এক ‘ইজি-পাস’ তৈরি করেছেন, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, পরিবেশের সুরক্ষা, স্থানীয় উদ্যোক্তার বাঁচার পথ—সবকিছুকে নস্যাৎ করে দেয়। এই ব্যবস্থায় শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ, ট্রেড ইউনিয়নের দমন, এবং একপ্রকার রাষ্ট্রীয় সুবিধাপ্রাপ্ত কর্পোরেট মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হচ্ছে।
ড. ইউনুস একসময় ছিলেন ‘সোশ্যাল বিজনেস’-এর পোস্টারচাইল্ড। আজ তিনি হয়ে উঠেছেন “বেঁচো বাংলাদেশ” ব্র্যান্ডের সর্বেসর্বা। তার আসল ব্যবসা এখন ‘রেন্ট-এ-দেশ’ মডেল—যেখানে গরিবের ঘাম, শ্রমিকের হাড়, কৃষকের জমি, উদ্যোক্তার স্বপ্ন সবই কনসালট্যান্সির প্যাকেজে ঢুকিয়ে বিদেশি কর্পোরেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করেন—সুন্দর মুখ, চকচকে স্লাইড, আর ধোঁয়াশাময় পরিসংখ্যান দিয়ে।
বিডা চেয়ারম্যান: উন্নয়নের মুখপাত্র না লবিস্ট?
বিডা চেয়ারম্যান নিজেকে উপস্থাপন করেন এক ‘ভবিষ্যত বান্ধব’ প্রশাসক হিসেবে। অথচ বাস্তবে, তিনি হলেন এক কর্পোরেট দালাল যিনি বৈদেশিক বিনিয়োগের নামে দেশের আইন, সম্পদ ও জনগণের ভবিষ্যত হস্তান্তর করেন নানা ‘চুক্তি’র বিনিময়ে। তার মুখে মিষ্টি প্রতিশ্রুতি—“দুই বছরে চল্লিশ লাখ চাকরি”—তবে মাঠে-ময়দানে তরুণেরা বেকার, উদ্যোক্তারা দেউলিয়া, আর গ্রামের ছেলে বিষ খায় ঢাকায় এসে কাজ না পেয়ে। এই মিথ্যাচার চলছে শুধু ক্যামেরার জন্য, আর ব্যাকএন্ডে চলছে কমিশন ভাগাভাগি।
উন্নয়নের নামে দমন-পীড়ন: একটি রাষ্ট্রীয় কৌশল
এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো মূলত রাষ্ট্রীয় দমননীতির অংশ। হকার তাড়ানো, অটোচালক নিপীড়ন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উৎখাত, পরিবেশ ধ্বংস—সবই এই ‘গ্লোবালাইজড উন্নয়ন’র পূর্বশর্ত। ইউনুস ও বিডা চেয়ারম্যানের যুগলবন্দীতে গড়ে উঠেছে এক রাষ্ট্রীয় স্টার্টআপ, যেখানে ব্যবসার একমাত্র পণ্য হলো—বাংলাদেশ।
ভবিষ্যতের ভয়াবহতা: রাষ্ট্রের ভেতর কর্পোরেট রাষ্ট্র
আমরা এখন এমন এক সময় দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে রাষ্ট্র চালায় না—রাষ্ট্র বিক্রি করে। উন্নয়নের নামে এই দুই ব্যক্তি ও তাদের মতো শত শত লোক এদেশকে করে তুলেছে এক কর্পোরেট ডিপার্টমেন্ট স্টোর। এখানে নাগরিকতা, সম্মান, শ্রম, জমি—সবই বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত। প্রশ্ন হলো—এরা কার প্রতিনিধি? জনগণের না বিদেশি হায়েনাদের?
আজ বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে—উন্নয়নের নামে দেশবিক্রির প্রতারণা। ড. ইউনুস ও বিডা চেয়ারম্যান এই প্রতারণার প্রধান প্রকৌশলী।
তারা রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে থেকে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত। তাদের মুখে উন্নয়নের বুলি, কিন্তু হাতে জাতির সর্বনাশের চুক্তিপত্র। দেশের তরুণ, শ্রমিক ও উদ্যোক্তারা এখনো যদি না জেগে ওঠে, তবে এই ‘উন্নয়ন’ হবে এমন এক পাঁক, যেখানে জাতির ভবিষ্যৎ চিরতরে ডুবে যাবে।
