একাত্তরের আলবদর নেতা এটিএম আজহারকে মুক্তি দিল ইউনূস প্রশাসন। মুক্তিযুদ্ধের চিহ্নিত রাজাকারকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা কি না, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
জাতির বেদনার অধ্যায় ১৯৭১। সেই মুক্তিযুদ্ধে যেসব বাঙালি নিজ জাতির বিরুদ্ধেই অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, তাদের অন্যতম ছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠনের সভাপতি এবং রংপুর জেলা শাখার আলবদর কমান্ডার হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি এখন আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এই চিহ্নিত রাজাকারকে মুক্তি দিয়েছে।
কে এই এটিএম আজহার?
- ১৯৭১ সালে রংপুর অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।
- ৭০ জনের বেশি আলবদর সদস্যের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে দিতেন পাকিস্তানি বাহিনীকে।
- ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে।
- ২০২১ সাল থেকে দণ্ড কার্যকর না হয়ে কারাবন্দী ছিলেন।
কেন মুক্তি?
তথ্য অনুযায়ী, "স্বাস্থ্যগত কারণ" ও "মানবিক বিবেচনা" দেখিয়ে এই মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি সরল নয়। এটি হতে পারে আন্তর্জাতিক চাপে অথবা ইউনূস প্রশাসনের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন
এটিএম আজহার মুক্তির খবরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা ও সাধারণ জনগণ। উঠছে কিছু গুরুতর প্রশ্ন:
- এই মুক্তি কি আইনের প্রতি অবমাননা নয়?
- জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা নয় কি একজন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দেওয়া?
- এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইউনূস সরকারের আদর্শগত অবস্থান কতটা প্রভাব ফেলেছে?
ইউনূসের ভূমিকায় সন্দেহ
অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন, ড. ইউনূস নিজেই কি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি আন্তরিক ছিলেন?
- অতীতে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের সঙ্গে পরোক্ষ ঘনিষ্ঠতা বা মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
- এটিএম আজহারের মুক্তির ঘটনায় সেই প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে—তিনি কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত অনুমোদন করলেন?
জাতীয় নিরাপত্তা ও ইতিহাসের ওপর প্রভাব
একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে এইভাবে মুক্তি দেওয়া শুধু আইনি নয়, নৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
- এটি যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের পথ খুলে দেয়।
- বিচারের দীর্ঘ সংগ্রামকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
- রাষ্ট্রের জন্ম ও আত্মপরিচয়ের চেতনায় আঘাত হানে।
একাত্তরের ঘাতক আজহারকে মুক্তি দিয়ে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যে জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতার রাস্তায় হাঁটছে—তা অনেকের কাছে এখন স্পষ্ট।
এই সিদ্ধান্ত ইতিহাসে কীভাবে লেখা হবে, তা ভবিষ্যতের বিবেক ঠিক করবে। তবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এটি একটি সতর্ক সংকেত—মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ যেন কোনো রাজনীতি বা সুবিধার তলায় চাপা না পড়ে।
