মসজিদের মাইক থেকে এখন ঘোষণা হয় মৃত্যুদণ্ড। ছিনতাইকারী সন্দেহে মানুষ খুন হচ্ছে, চাপাতি থাক বা না থাক। রাষ্ট্র এখন নিজেই খুনের লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে ‘জনগণ’-এর হাতে। বিশ্লেষণ পড়ুন।
একটি মসজিদের মাইক থেকে ভেসে এল এক লাইন কথা—”ছিনতাইকারী ঢুকছে।” এরপর?
গণপিটুনি। মৃত্যু।
চাপাতি ছিল কি না, ছিনতাই হচ্ছিল কি না—এখন আর তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ, একটি মাইক বলে দিয়েছে যে তারা ‘অপরাধী’। সেটাই যথেষ্ট।
রাষ্ট্র যখন গুজবের পেছনে দাঁড়ায়
এই হত্যা কাহিনি নতুন কিছু না। এখন প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও কোনো "সন্দেহভাজন" মারা পড়ে। জনগণ মারছে। পুলিশ পরে গিয়ে তার পাশে রেখে যাচ্ছে চাপাতি। যেন নাটকটা পরিপূর্ণ হয়। যেন পত্রিকার ক্যামেরায় ছবি আসে। যেন হত্যার জন্য যুক্তি পাওয়া যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই হত্যাকারীরা এমন সাহস পায় কোথা থেকে?
উত্তর সোজা—রাষ্ট্র।
রাষ্ট্রীয় নীরবতা মানে রাষ্ট্রীয় অনুমোদন
যখন প্রশাসন বলে “সন্দেহভাজন ছিল”,
যখন পুলিশ বলে “খোঁজ নিচ্ছি”,
যখন সরকার কোনো বিচার না করে মুখে কাগজ গুঁজে রাখে—
তখন আসলে পুরো রাষ্ট্রই এই হত্যার দায় নিচ্ছে।
এই রাষ্ট্র এখন মোহাম্মদ ইউনুসের সেই ‘অদৃশ্য সরকার’—যেটা জনগণের ভোটে আসে না, ক্ষমতা হাইজ্যাক করে।
এবং এখন সে জানে, পুলিশ দিয়ে মারলে সমালোচনা হয়। ভিডিও ভাইরাল হয়। তাই সে ‘জনগণ’-এর হাতে খুনের লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। এবং সেই লাইসেন্সের আওতায় এখন মসজিদের মাইক একটা ‘ঘোষণা পত্র’ মাত্র।
গণপিটুনির নতুন রূপ
আজকাল খুন হওয়ার জন্য অপরাধী হওয়ার দরকার পড়ে না।
– প্রেম করলে খুন।
– মোবাইল চুরি করলে খুন।
– মাদক সন্দেহে খুন।
– ছিনতাইকারী সন্দেহে খুন।
এখন সবচেয়ে বড় অপরাধ “সন্দেহভাজন” হওয়া।
মসজিদ যখন খুনের মঞ্চ
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো, যেখান থেকে মানুষ কল্যাণের ডাক শুনে অভ্যস্ত—সেই মসজিদ—সেই মাইকই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে খুনিদের সমবেত করতে। আল্লাহর নামের বদলে উচ্চারিত হচ্ছে মৃত্যুর পরোয়ানা। এই ব্যবহারের পেছনে দায় কাদের?
– ইমামদের?
– মসজিদ পরিচালনা কমিটির?
– প্রশাসনের?
– রাষ্ট্রের?
মোহাম্মদ ইউনুস, আপনি দায় এড়াতে পারেন না
আপনি রাষ্ট্রের প্রধান, কিন্তু আপনার অধীনে এখন রাষ্ট্রহীনতা চলছে। আপনি নিজেই এখন ‘সন্দেহভাজন’—মানবাধিকার হরণের, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিহ্ন করার, আর পুরো দেশের জনসাধারণকে উন্মত্ত ভিড়ে পরিণত করার দায়ে।
এই রাষ্ট্র এখন আইনের রাজ্য নয়। এখন এখানে রাজত্ব করে গুজব, ভয়, ঘৃণা, এবং একটাই শব্দ—“সন্দেহ”।
গণপিটুনি এখন ব্যক্তিগত ক্রোধ নয়, এটা রাষ্ট্রীয় নীতির অনানুষ্ঠানিক রূপ।
আর মসজিদের মাইক এখন শুধু আহ্বান নয়, এটা এখন আধুনিক হত্যার ঘোষণা।
এটা থামাতে হলে শুধু খুনিদের নয়, তাদের পেছনে যারা আছে—সেই রাষ্ট্র, সেই সরকারকেই বিচারের কাঠগড়ায় তুলতে হবে।
