
ঢাকায় ঈদের রাতে শতভাগ বর্জ্য অপসারণের দাবি করলেও আজও অলিগলি ও সড়কে ছড়িয়ে আছে দুর্গন্ধ ছড়ানো কোরবানির বর্জ্য।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ঈদের রাতে কোরবানির শতভাগ বর্জ্য অপসারণের দাবি করলেও আজ রোববার (৮ জুন) সকালেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে পশু জবাইয়ের উচ্ছিষ্ট, যার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় আগারগাঁও, মধ্য পীরেরবাগ, মিরপুর, বেনারসিপল্লি, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, আজিমপুরসহ বহু জায়গায় এখনো বর্জ্য স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অলিগলিতে জমে থাকা এই বর্জ্য শুধু চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) দাবি করেছিল ঈদের দিন রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ১০ হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৯ হাজার টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছেন। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) তাদের এলাকায় ১২ হাজার টনের বেশি বর্জ্য সরিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
- মিরপুরের ৬০ ফুট সড়কে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পচা বর্জ্য জমে থাকতে দেখা গেছে।
- মধ্যমণিপুর ও পশ্চিম আগারগাঁও এলাকাতেও বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে।
- মিরপুর ১১, বেনারসিপল্লি, প্যারিস রোড, কালশী এলাকা, শেওড়াপাড়া, আজিমপুর ও মনেশ্বর সড়কে একই চিত্র।
- এমনকি কলাবাগান শিশুপার্কের পাশেই, যেখানে ডিএসসিসি প্রশাসক এবং উপদেষ্টা ঈদের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন, সেখানে এসটিএস-এর এক-চতুর্থাংশে এখনো বর্জ্য জমে আছে।
❗ গণমাধ্যমে দাবির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক
যেখানে সিটি করপোরেশনগুলো দাবি করছে ৮–১২ ঘণ্টার মধ্যেই শতভাগ অপসারণ সম্পন্ন, সেখানে একদিন পর সকালেও মাঠে দৃশ্যমান অবস্থায় বর্জ্য থাকাটা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রমাণ দেয়। স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যার পর কোনো গাড়ি বর্জ্য নিতে আসেনি।
এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করলেও পর্যাপ্ত লজিস্টিক না থাকায় অপসারণ অসম্পূর্ণ থেকেই গেছে।
