
চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে নদী ও ড্রেনে ফেলে দিচ্ছেন কোরবানির চামড়া ব্যবসায়ীরা। অর্থনীতি ও পরিবেশে নেমেছে ভয়াবহ বিপর্যয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার আশপাশে এবং নারায়ণগঞ্জ, সাভার, টঙ্গী ও চট্টগ্রাম এলাকায় চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ। চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে নদীতে বা ড্রেনে চামড়া ফেলে দিচ্ছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, পানিতে ভাসছে ভেড়া, ছাগল ও গরুর চামড়া—যা কোরবানির একটি মূল্যবান উপজাত। অনেকেই বলেছেন, দাম তো দূরের কথা, পরিবহন খরচও উঠছে না। অনেক কাচা চামড়া সংগ্রহকারীর অভিযোগ, আড়তদাররাও নিচ্ছেন না চামড়া।
🎯 সমস্যা কোথায়?
- ট্যানারি মালিকদের একচেটিয়া দামে কারসাজি: সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় ট্যানারিরা অনেক কম দামে কিনতে আগ্রহী।
- হিমাগার সংকট: কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় চামড়া নষ্ট হওয়ার ভয়ও রয়েছে।
- চটজলদি নগদ অর্থ না পাওয়ার চাপ: কোরবানির সময় সংগ্রহ করা চামড়ার অর্থেই বহু মৌসুমি ব্যবসায়ী বাকির দেনা পরিশোধ করেন; এবার তারা চরম ক্ষতির মুখে।
- সরকারি নজরদারির অভাব: স্থানীয় প্রশাসন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাঠে সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অভাব স্পষ্ট।
🌊 নদীতে চামড়া ফেলা: ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
নদী ও খালগুলোতে চামড়া ফেলা শুধু অর্থনৈতিক অপচয় নয়, বরং এটি পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি। চামড়ার রাসায়নিক উপাদান ও পচনশীল বর্জ্য পানির জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ডেঙ্গু, কলেরা, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
