
এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ ড. ইউনুসের অধীনে নির্বাচন চায় না। জনগণের দাবি, অবৈধ ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হোক মুক্তিযুদ্ধপন্থী শক্তির হাতে।
কলাম লেখকঃ জী ইসলাম
বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত। দেশের সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনসমূহ একবাক্যে বলছে—বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বিতর্কিত সরকার এবং তার গঠিত এনসিপি।
নির্বাচনের নামে প্রহসন
সাম্প্রতিক একটি বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিক বিশ্বাস করে ড. ইউনুসের অধীনে কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণ মনে করে, তার অধীনে নির্বাচন মানেই প্রহসন এবং চরম কর্তৃত্ববাদী একচেটিয়া শাসনের বৈধতা প্রদান।
নিপীড়নের নতুন মাত্রা
গত নয় মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৩,৫৯,০০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধপন্থী সংগঠনের কর্মী ও নেতা। বহু নেতার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন খুন ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবিক কোনো প্রমাণ নেই—শুধু সাজানো লাশ।
চরমপন্থী ও জঙ্গিদের উত্থান
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সরকার একদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে দমন করছে, অন্যদিকে হলি আর্টিজান হামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি, বিডিআর বিদ্রোহের খুনি, এবং বিদেশি কূটনীতিক হত্যাচেষ্টার আসামিদের মুক্তি দিচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক চিত্র ভয়ানকভাবে চরমপন্থীদের দিকে ঝুঁকছে।
দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অপব্যবহার
বর্তমান প্রশাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতিবাজ আমলা ও ব্যবসায়ীরা সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় দায়মুক্তি পাচ্ছেন, যা জনমনে চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
জনগণের এখন একটাই দাবি—ড. ইউনুসকে প্রশাসনিক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। একইসঙ্গে, অবৈধভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত জঙ্গিদের পুনরায় বিচারের আওতায় আনার জন্য দাবি উঠেছে। জনগণ বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার শেষ ভরসা সেনাবাহিনী ও সংবিধানগত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ।
বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জনগণ এখন আর কৌশলী রাজনীতি নয়, চায় সোজাসাপ্টা গণতন্ত্র ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব। ড. ইউনুসের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান না ঘটলে দেশের ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হতে পারে।
