বাংলাদেশকে চার ভাগে বিভক্ত করে ‘ন্যাশনাল গার্ড’ গঠনের পরিকল্পনা, তরুণদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল করার ষড়যন্ত্র—একটি গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে রাষ্ট্রবিরোধী ভয়ঙ্কর চিত্র।
ঢাকা, ১০ জুলাই ২০২৫:
একটি গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে চারটি ‘আঞ্চলিক প্রশাসনিক জোনে’ বিভক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত হতে যাচ্ছে একটি আধা-সামরিক বাহিনী “ন্যাশনাল গার্ড”, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে একটি বিকল্প ছায়া প্রশাসনের হাতে।
‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)–এর ষড়যন্ত্র
ইউনসেু র অবৈধ ও অনৈতিক উদ্যোগে গঠিত এনসিপি প্রথমে উত্তরবঙ্গ সফর সম্পন্ন করে পরবর্তী পর্যায়ে দক্ষিণবঙ্গ যাত্রা করবে। তারা নির্বাচনের আড়ালে অবৈধ সরকার গঠনের দাবি করলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা। এ লক্ষ্য হাসিলের জন্য তারা বিএনপিকে সরকারি দল হিসেবে অটুট রাখার ছলচাতুরী করছে, যাতে পরবর্তী সময়ে রাজাকার জামাত-শিবিরকে শাসক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
এই প্রক্রিয়ায় খুন-ধর্ষণ, অরাজকতা ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজি বন্ধ রেখে সব দোষ বিএনপির ওপর চাপিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
একবার জনগণ বিএনপির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে, জামাত-শিবির ক্ষমতা দখলের সুযোগ পাব।
দেশের বিভাজনচিন্তাঃ
অপশক্তি ঢাকা কেন্দ্রিক রাজনীতি ভাঙিয়ে দেশের ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে চারটি প্রদেশ তৈরির পরিকল্পনা নিচ্ছে।
এর ফলে দেশপ্রেমিক শক্তিগুলো একজোট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং স্বাধীনতা আন্দোলন অটুট রাখা কঠিন
হয়ে উঠব


গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,
এই তথাকথিত “ন্যাশনাল গার্ড” হবে মূলত ১৫–২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত একটি ইউনিট।
যেসব তরুণ এই বাহিনীতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া দখল নিশ্চিত করার কৌশল চালানো হবে।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়,
এই ইউনূসপন্থী কৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে জামায়াত-শিবিরের পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটানোই মূল লক্ষ্য।
আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রত্যাবর্তনের এই চেষ্টা সফল হলে বাংলাদেশ আবার অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়,
এই পরিকল্পনার আড়ালে রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক এজেন্ডা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আর্থিক স্বনির্ভরতা ধ্বংস করে দিতে চায় একটি চিহ্নিত মহল।
অর্থনৈতিকভাবে দেশকে আবার কৃষি-নির্ভর, সাশ্রয়ী উৎপাদনে ফিরিয়ে এনে আঞ্চলিক নির্ভরশীলতা (বিশেষত প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি) বাড়ানোর লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং উৎপাদন খাতকে ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে দিয়ে দেশের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে।
আশঙ্কাঃ
রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, তারা বাংলাদেশকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরিয়ে ১৯৮০-এর দশকের মতো কৃষিনির্ভর মডেলে ফিরিয়ে নিতে চায়।
অর্থনীতিবিদ জনাব আরিফ খান উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগের প্রকৃত লক্ষ্য হলো ভারতের ওপর আমাদের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে ফেলা এবং সর্বশেষে দেশটিকে কৃত্রিমভাবে ‘উত্তর কোরিয়া’র মতো এক বন্ধ-সমাজে পরিণত করা। আমার সীমিত জ্ঞান অনুযায়ী, এর ফলে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজের পরিবর্তে ধর্ম ও সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে মানষেু র জীবন নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা তীব্র হবে—ইতিহাস থেকেই আমরা
জানি, মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও জামাত-শিবিরের জন্য ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
রিপোর্টে এও দেখা গেছে,
এই অপচেষ্টার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সংস্কৃতিকে ব্যবহার করে তরুণ সমাজকে রাজনীতি ও রাষ্ট্রভাবনার জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে আপাত ‘নিরপেক্ষ’ কিন্তু আদতে নিয়ন্ত্রিত বিনোদন-নির্ভর প্ল্যাটফর্ম।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
এই পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে একটি নিয়ন্ত্রিত ও নীরব সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা,
যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ থাকবে একটি অনির্বাচিত, ছায়াভিত্তিক শক্তির হাতে।
জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই গোয়েন্দা রিপোর্টকে “রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সতর্কবার্তা” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তারা বলছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
এই রিপোর্ট এখন সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থার পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ষড়যন্ত্রের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে অভিযান পরিচালনা করছে বলে অপ্রকাশিত সূত্র নিশ্চিত করেছে।
“ন্যাশনাল গার্ড” গঠন ও বাংলাদেশকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র, এটা শুধুমাত্র একটি বিকল্প প্রশাসনিক কাঠামোর প্রস্তুতি নয়,
এটি একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রবিরোধী অপচেষ্টা। জাতিকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ষড়যন্ত্র রুখতে হবে—এটাই সময়ের দাবি।
