বিশেষ প্রতিবেদনঃ
৭ মার্চ ১৯৭১ সাল। ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হল।
সাড়ে সাত কোটি মুক্তিকামী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, ইতিহাসের মুকুটহীন সম্রাট রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের এই মারাত্মক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির ওপর এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণদান করবেন।
বাংলাদেশের দূর-দূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুক্তিপাগল মানুষ সমাবেশে যোগদান করল। তাদের সকলের চোখে-মুখে নবতর চেতনা ও বৈপ্লবিক দৃপ্তপ্রত্যয়। হাতে বাঁশের লাঠি। সমাজের ছাত্র-যুবক, কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, অফিসার-কেরানি-পিয়ন-দারোয়ান, শিল্পপতি-ব্যবসায়ী-দালাল, কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী-সংস্কৃতিসেবী, প্রকৌশলী-কারিগর, আইনজীবী-চিকিৎসক, উদ্বাস্ত্র-ভবঘুরে, ফকির-সন্ন্যাসী, সাধু-দরবেশ, রিকসাচালক-ঠেলাগাড়িওয়ালা, কন্ডাক্টর-ড্রাইভার, পকেটমার-চোর-ডাকাত-প্রতারক, হিজড়া-বেশ্যাসহ সর্বস্তরের প্রায় ২০-২২ লক্ষ মানুষের ঐতিহাসিক সমাবেশ। হয় অধিকার নিয়ে বাঁচবে, নয়তো অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে জীবনপণ লড়াই করবে। কেমন এবং কিসের সেই লড়াই? তার দিকনির্দেশ দেবেন প্রিয়নেতা বিপ্লবী মুজিব, সংগ্রামী মুজিব, শিক্ষক মুজিব।
লক্ষ লক্ষ জনতার পদভারে, স্লোগানে-উল্লাসে, ক্ষোভে প্রতিবাদে ঢাকার আকাশ-বাতাস-মাটি, গাছগাছালি, দালানকোঠা, রাজপথ-গলিপথ থরথর করে কেঁপে উঠতে লাগল। মুক্তিপাগল মানুষের সমবেত কণ্ঠের স্লোগান উঠল, জেগেছে জেগেছে বাঙালি জেগেছে, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তানকে লাথি মার বাংলাদেশ কায়েম কর, বঙ্গবন্ধু যেখানে আমরা আছি সেখানে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!
এদিক-ওদিক-সেদিক। এক মাইল অবধি লোকে ঠাসা। সমাবেশের কোথাও নেই পাকিস্তানি সবুজ-সাদা আর চাঁদ-তারা খচিত পতাকা। তদস্থলে হাজার হাজার স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা ও সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর নানান ধরনের ছবি বাতাসে উড়তে লাগল।
স্বাধীনতার দৃপ্তচেতনায় উদ্ভাসিত মহাজনতা মহানায়কের কাছ থেকে মহাবিপ্লবের ডাক শুনতে চায়। তাইতো মানুষের এত ব্যাকুলতা। বঙ্গবন্ধু আজ মহাকবির আসনে প্রতিষ্ঠিত। মহাকবির মহাকাব্য শোনার তাইতো এত একাগ্রতা- অধীর অপেক্ষা। কখন আসবে কবি? কখন শোনাবে অমর উজ্জ্বল দৃপ্ত কাব্যখানি?
বিকেল ৩-১৫ মিনিট।
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্তভঙ্গিতে, উজ্জ্বল হাসির রঞ্জিত বঙ্গবন্ধু মঞ্চের উপর এসে
দাঁড়ালেন। জনসমুদ্রে তখনই জাগল জনমানুষের দোলা। সাগরে যেমন উর্মি জাগে। বঙ্গবন্ধু কিছুক্ষণ মৌনদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন তাঁর প্রিয় বাংলার মানুষের দিকে। জনতার বিপুল উল্লাস আর করতালির ধ্বনি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে এল। মুহূর্তমধ্যে সেই বিশাল জনসমুদ্রের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল তাঁর মেঘমন্দ্রিত ভরাটগম্ভীর অতুলনীয় জাদুভরা বজ্রকণ্ঠস্বর:
‘ভাইয়েরা আমার! আজ দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।
আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কী অন্যায় করেছিলাম?
নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করব এবং এই দেশকে আমরা গড়ে তুলব, এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তেইশ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নরনারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।
১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম।
তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হল। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসেবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলিতে বসব। আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করব; এমনকি আমি এ পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজনও যদি সে হয়, তার ন্যায্য কথা মেনে নেব।
জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরও আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করলাম, আপনারা আসুন বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরি করি। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসেন, তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলি। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত দোকানপাট জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলি চলবে। তারপর হঠাৎ ১ তারিখে এসেম্বলি বন্ধ করে দেওয়া হল।
ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসেবে এসেম্বলি ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাব। ভুট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপরে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হল এসেম্বলি। দোষ দেওয়া হল বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হল আমাকে। বন্দুকের মুখে মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল। আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সবকিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্থির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হল।
কী পেলাম আমরা? যে আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে আমার গরিব-দুঃখী আর্ত মানুষের বিরুদ্ধে, তার বুকের ওপর চালানো হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু। আমরা বাঙালিরা যখনই ক্ষমতায় যাবার জন্য চেষ্টা করেছি, তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
টেলিফোনে আমার সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তাকে আমি বলেছিলাম, জনাব ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরিবের ওপরে, আমার বাংলার মানুষের ওপরে গুলি করা হয়েছে, কী করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে। আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০ তারিখে রাউন্ডটেবিল কনফারেন্স ডাকব।
আমি বলেছি, কিসের আরটিসি? কার সঙ্গে বসব? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার ওপর দিয়েছেন, বাংলার মানুষের ওপর দিয়েছেন।
ভাইয়েরা আমার,
২৫ তারিখে এসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি যে, ঐ শহীদের রক্তের উপর পা দিয়ে কিছুতেই মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। এসেম্বলি কল করেছেন। আমার দাবি মানতে হবে: প্রথম, সামরিক আইন মার্শাল ল’ উইথড্র করতে হবে; সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে; যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে; আর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখব, আমরা এসেম্বলিতে বসতে পারব কি পারব না। এর পূর্বে এসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না।
আমি, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট- কাচারি, আদালত-ফৌজদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরিবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে, সে জন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে, সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকসা, গরুর গাড়ি চলবে, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে; শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমিগভর্নমেন্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা কোনো কিছুই চলবে না।
২৮ তারিখে কর্মচারীরা বেতন নিয়ে আসবেন। এর পরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে, এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।
আমরা ভাতে মারব, আমরা পানিতে মারব। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলি চালাবার চেষ্টা কর না। ভালো হবে না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।
আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করব। যারা পারেন, আমার রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা-পয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন। আর এই সাতদিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌছায়ে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হল, কেউ দেবে না। মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটপাট করবে। এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-ননবাঙালি যারা আছে, তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের ওপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়।
মনে রাখবেন, রেডিও-টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে, তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশনে আমাদের নিউজ না দেয়, কোনো বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না।
দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে যাতে মানুষ তাদের মায়নাপত্র নিবার পারে। কিন্তু পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন-টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে চালাবেন।
কিন্তু যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝেসুঝে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাল্লাহ।
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’
