প্রকাশ্যে দিবালোকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একজনকে হত্যার হুমকি দিয়েছে কথিত হুজুর। ফার্মগেট মনিপুরিপাড়া ২ নম্বর গেটের একটি দোকানে এই ঘটনা ঘটে।
নিজস্ব প্রতিবেদক;
আজ রবিবার (৯ই মার্চ২০২৫)- প্রকাশ্যে দিবালোকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একজনকে হত্যার হুমকি দিয়েছে কথিত হুজুর। রাজধানীর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ফার্মগেট মনিপুরিপাড়া ২ নম্বর গেটের একটি দোকানে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্টাটাস হুবহু তুলে ধরা হল।
সংখ্যালঘু বলেই কি আমাদের এই অবস্থা?
আজ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আমি আর আমার এক ছোট ভাই মনিপুরিপাড়া ২ নম্বর গেটের একটি দোকান থেকে পেপসি কিনে পাশের গলির এক কোণায় গিয়ে খেতে গিয়েছিলাম। রোজার মাস, তাই জনসম্মুখে না খেয়ে এমন একটা জায়গা বেছে নিয়েছিলাম যেখানে কেউ আসা-যাওয়া করে না। কিন্তু তাতেও রেহাই পেলাম না।
আমাদের দেখে হঠাৎ এক হুজুর আমাদের পেছনে এলেন। তিনি এসে আমাদের ঠিকানা জানতে চাইলেন। আমরা ঠিকানা বলার পরেই উনি হাতে থাকা সিঙ্গারা ফেলে দিয়ে আমাদেরকে বেয়াদব বলতে শুরু করলেন এবং তাড়িয়ে দিলেন। যেহেতু উনি আমাদের দেখে ফেলেছেন, আমরাও sorry বলে সেখান থেকে চলে যাচ্ছিলাম।
কিন্তু ব্যাপারটা ওখানেই শেষ হয়নি। ওই লোক আমাদের উদ্দেশ্য করে বাজে ভাষায় গালি দিতে লাগলেন এবং বললেন, “এই দাঁড়া তোরা!” আমরা গতি বাড়িয়ে সামনে এগোতে লাগলাম, কিন্তু উনি আমাদের সামনে এসে পথ আটকালেন এবং গালিগালাজ শুরু করলেন এবং চড় মারতে চাইলেন।
আমি বললাম, “দেখুন হুজুর, আমরা খ্রিস্টান, আর আমরা ইচ্ছা করেই প্রকাশ্যে খেতে চাইনি।”
এ কথা শোনার পর উনি ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন,
“তোরা খ্রিস্টান, তোরা শূকর খাওয়া শূকরের জাত!”
আমি তখন একটু রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বললাম,
“আপনি একজন হুজুর হয়ে কিভাবে এমন কথা বলেন? আপনি একজন মুরব্বি, তাই আমি কিছু বলছি না। কিন্তু এই কথাটা কি ঠিক বললেন?”
তখন উনি আরও উত্তেজিত হয়ে বললেন,
“কি করবি তুই, কর? দেখি কত বড় বুকের পাটা তোর। তোর বাসায় যাবো, চল।”
আমি বললাম, “আপনি আমার বাসায় এসে কি করবেন?”
উনি ভয়ংকর এক জবাব দিলেন, যা আমি কখনও কল্পনাও করিনি।
“তোদের বাসায় গিয়ে তোদের সামনে তোদের জ*বা*ই করবে, আর তোদের মাকে চু**বো!”
এই কথাটা শুনে আমার মাথায় রক্ত উঠে গেল। আমি রাগে কাঁপছিলাম, ঠিক কী বলেছি মনে নেই, কিন্তু প্রশ্ন একটাই, একজন হুজুর হয়ে কিভাবে এতটা নীচ কথা বলতে পারে?
এখানেই শেষ না।
এই ঝামেলা চলতে থাকলে আশপাশের মানুষজনও জড়ো হতে শুরু করলো। আমরা ভেবেছিলাম অন্তত কেউ এসে আমাদের পাশে দাঁড়াবে, কিন্তু তারাও সেই হুজুরের পক্ষ নিলো। শুধুমাত্র এই কারণে যে আমরা খ্রিস্টান এবং উনি একজন হুজুর।
তারা কেউ জিজ্ঞেস করল না আসল ঘটনা কী। তারা কেউ বলল না যে আমাদের কোনো দোষ নেই। বরং তাদের দৃষ্টিতে আমরা অপরাধী হয়ে গেলাম, শুধু আমাদের ধর্মের কারণে।
উনি যখন বললেন,
“দেখি অমুসলিমরা কিভাবে বাঁচে এই এলাকায়!” তখনও কেউ কোনো প্রতিবাদ করলো না।
বাংলাদেশ কি শুধু মুসলমানদের দেশ? আমরা খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধরা কি এই দেশের নাগরিক নই? আমাদের কি এখানে বেঁচে থাকার অধিকার নেই?
আজ আমাদের সাথে হয়েছে, কাল কার সাথে হবে? আমরা কি সবসময় এভাবে ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকব? ধর্ম যার যার, কিন্তু দেশ সবার। যদি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি থাকে, তাহলে আমাদেরও তো সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে।
এই দেশে সংখ্যালঘুরা কি সত্যিই নিরাপদ? নাকি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্যই সব নিয়ম?
একটা উত্তর চাই, আমরা কি মানুষ না?
