লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সাবেক নৌবাহিনী সদস্য ও তার দুই কন্যার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা যেন ইউনুসের শাসিত বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত চিত্রই তুলে ধরছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজ বাড়িতেই ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত হন ওই সাবেক কর্মকর্তা ও তার সন্তানরা।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ইউনুসের শাসনামলে অপরাধীদের বেপরোয়া আচরণের একটি ভয়াবহ নিদর্শন। দেশের সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্ক আর অনিরাপত্তায় দিন কাটাচ্ছে, যেখানে অপরাধীরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে, আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
আইনের শাসন এখন কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ। বাস্তবে মানুষ বিচার পায় না, পুলিশ থাকে নিষ্ক্রিয়, আর অপরাধীরা হয়ে ওঠে আরও সাহসী ও নৃশংস। লক্ষ্মীপুরের এই হামলা যেন গোটা প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
একজন সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা—যিনি এক সময় দেশের সেবা করেছেন—আজ নিজের ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন সন্তানদের নিয়ে, অথচ প্রশাসন নির্বিকার। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, মামলা করার উদ্যোগ নিলেই আসছে মৃত্যুর হুমকি: “মামলা করলে মেরে ফেলবো।”
এই জমি সংক্রান্ত বিরোধটি দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না। ফলে অনিবার্যভাবেই এমন রক্তপাতের ঘটনা ঘটে।
প্রশ্ন জাগে: এই দেশে আর কে নিরাপদ? যদি সাবেক সেনা, নৌ বা পুলিশ কর্মকর্তারাও নিজ বাড়িতে নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী বা গৃহবধূদের অবস্থা কী হতে পারে?
ইউনুসের সরকার ক্ষমতায় থাকলে এমন ঘটনা চলতেই থাকবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর রাজনৈতিক প্রভাব প্রবেশ করেছে। অপরাধীদের ধরার প্রশ্নই আসে না, বরং তারা আজ ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে—কারণ তারা জানে, তাদের কিছুই হবে না।
বাংলাদেশ আজ এমন এক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ন্যায়বিচার চাওয়াটাই হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক কাজ। এই যদি হয় “শাসনব্যবস্থা”, তবে এটিকে গণতন্ত্র নয়, নিঃশব্দ সন্ত্রাস বললেই সঠিক হবে।
