রেলকে লাভজনক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর তিন নেতা এবং একজন কলেজ শিক্ষার্থীকে। দায়িত্ব ছিল ইঞ্জিনের ডিজাইন থেকে শুরু করে রেলের উন্নয়ন—শোনার সঙ্গে সঙ্গেই হাসি পায়! কিন্তু ঘটনা এখানেই থামে না।
ঢাকা, ১৫ এপ্রিল: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন জন সক্রিয় কর্মী এবং রাজউক কলেজের ছাত্র নাজিব আহমেদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের ফ্রি পাস ব্যবহারের নামে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নির্দেশে তাদেরকে রেলের ‘উন্নয়ন ও কল্যাণ’মূলক কাজে যুক্ত করা হয়। অথচ বাস্তবে দেখা গেছে, এই চারজন দীর্ঘদিন ধরে রেলের এসি বার্থ ও স্নিগ্ধা কক্ষ ব্যবহার করে প্রায় দুই লাখ টাকার ভ্রমণ করেছেন—একটি সুবিধা যা মূলত রেলকর্মীদের জন্য বরাদ্দ থাকে।
ফ্রি পাসে দুর্নীতি: কীভাবে চলছে টিকিট বাণিজ্য?
জানা গেছে, এই চারজনকে উপদেষ্টা মহোদয়ের নির্দেশে দুই মাসের ফ্রি পাস দেওয়া হয় রেলের এসি বার্থ ও স্নিগ্ধা শ্রেণিতে সারাদেশে ভ্রমণের জন্য। অথচ বাস্তবতা হলো—এই ফ্রি পাসের অপব্যবহার করে তারা গত পাঁচ মাসে প্রায় দুই লাখ টাকার টিকিট ব্যবহার করেছে, এমনকি একই দিনে, একই নামে একাধিক গন্তব্যে ভ্রমণের তথ্যও পাওয়া গেছে, যা কেবল ‘প্রেতাত্মা’ হলেই সম্ভব।
দুই মাসের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও, অভিযুক্তরা নভেম্বর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত নিয়মিত ভ্রমণ করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—তারা একই দিনে একাধিক গন্তব্যে, একই নাম ব্যবহার করে টিকিট নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, একই দিনে কেউ ঢাকা-কক্সবাজার এবং রাজশাহী-ঢাকা ভ্রমণের জন্য টিকিট সংগ্রহ করেছেন। এটি বাস্তবে অসম্ভব হলেও রেলের রেকর্ডে তা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সুপরিকল্পিত টিকিট কালোবাজারির একটি উদাহরণ।
তাদের প্রতিষ্ঠান “জুলাই ফাউন্ডেশন” রেলের বড় স্টেশনগুলোতে দোকান বরাদ্দ ও প্রাইভেট ট্রেন চালানোর আবেদনও করেছে। রেলের বদলি বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি অডিও ইতোমধ্যে ফাঁস হয়েছে, যা এই দুর্নীতিকে আরও ঘনীভূত করেছে।
প্রশ্ন উঠছে—এদের এমন ক্ষমতা কে দিয়েছে? রেল উপদেষ্টা? মন্ত্রণালয়? নাকি এনসিপি?
রেলওয়ে মন্ত্রণালয় কেন এই চারজনকে বাইরের লোক হয়েও ফ্রি পাস দিয়েছে, সেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভেতরেও। পূর্বে কোনো ইতিহাস না থাকলেও, এবার এই ব্যতিক্রম কীভাবে হলো, তা নিয়ে সরব হয়েছেন রেলের অনেক কর্মকর্তা।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন:
👉 রেলের দুই লাখ টাকার ক্ষতির দায় কে নেবে?
👉 টিকিট কালোবাজারির তদন্ত হবে কি?
👉 “ছাত্র আন্দোলনের” নামে এমন সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে?
একইসাথে প্রশ্ন উঠেছে—এই দুই লাখ টাকার ক্ষতি কে বহন করবে? উপদেষ্টা, সচিব, নাকি ডিজি? দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে মন্ত্রণালয়?
গোয়েন্দা তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি
সংশ্লিষ্ট মহল দাবি তুলেছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেন দ্রুত তদন্ত করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়। সেইসাথে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনগণের করের টাকার অপব্যবহার বন্ধ করা হোক।
এই ঘটনায় রেল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা, তাদের দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
