“ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ। আইন সংস্কার ও আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা বিরোধী দলীয় নেতা, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্বিচার গ্রেপ্তার ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
পুনরাবৃত্তি হচ্ছে পুরনো নিপীড়ন
HRW-এর “After the Monsoon Revolution: A Roadmap to Lasting Security Sector Reform in Bangladesh” শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী শেখ হাসিনা সরকারের সময়কার নিপীড়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। বিরোধী দলীয় নেতা, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে বড় বাধা।
গণগ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ শিশু। আহতদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করা, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা এবং চিকিৎসকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আইন সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং প্রশাসন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করে একটি মানবাধিকার সম্মত আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। এছাড়া, জাতিসংঘের সহায়তায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত করবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ
সংবাদ সম্মেলনে HRW-এর এশিয়া পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, “প্রায় ১,০০০ বাংলাদেশি গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে। এই অর্জন নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত হবে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠন করা, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত হয়।
