সবজির বাজারে অস্থিরতা, প্রায় সবই ৮০ টাকার ওপরে
রোজার আগে ও ঈদের সময় যেসব সবজির দাম ছিল সহনীয় পর্যায়ে, ঈদের পরপরই সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। বর্তমানে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার ওপরে।
দেশি বেগুন, শসা, করল্লা, কাকরোল, পেঁপে, ঢেঁড়স, বরবটি, কচুর লতি, কচুরমুখী, ধনেপাতা—সবই বিক্রি হচ্ছে ৮০-১৬০ টাকার মধ্যে। সজনে ডাটার দাম সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা, দেশি পটল ১৫০ টাকা এবং ধনেপাতা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
🧅 পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামেও বড় পরিবর্তন
বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
- দেশি পেঁয়াজ: ৬০-৬৫ টাকা
- বড় আকারের পেঁয়াজ: ৬০ টাকা
- নতুন ক্রস পেঁয়াজ: ৫৫-৬০ টাকা
আদা ও রসুনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র।
- দেশি রসুন: ১৩০-১৪০ টাকা
- চায়না রসুন: ২০০-২২০ টাকা
- ভারতীয় আদা: ১২০ টাকা
- চায়না আদা: ২০০-২২০ টাকা
🐔 ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও স্থিতিশীল নয়
বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে, যা এখন ১৬০-১৭০ টাকা কেজি। তবে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, খামারিরা উৎপাদন বন্ধ করলে আগামী মাসে দাম আবার বেড়ে যেতে পারে।
দেশি মুরগি ৬২০-৬৪০ টাকা কেজি, আর ডিমের দামও এখন বেশ চড়া—লাল ডিম ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকা ডজন।
🐟 মাছের বাজারেও চড়া দাম
ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৩২০০ টাকা পর্যন্ত।
রুই, কাতল, পাবদা, টেংরা, বোয়াল, চিংড়ি, কাজলি, বাতাসীসহ অন্যান্য মাছের দামও কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে শুরু করে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, মান ও আকৃতি অনুযায়ী।
🛒 মুদি বাজারে মিশ্র চিত্র
ডাল, বাদাম ও মসলার বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা থাকলেও দাম এখনো অনেক বেশি।
- মুসুর ডাল: ১১০-১৩০ টাকা
- মুগ ডাল: ১৪০-১৭০ টাকা
- মাশকলাই: ১৯০ টাকা
- কাজু বাদাম: ১৭০০ টাকা
- প্যাকেটজাত চিনি: ১২০ টাকা
- খোলা চিনি: ১১৫ টাকা
- বোতলজাত সয়াবিন: ১৮৯ টাকা
- খোলা সয়াবিন: ১৫৭ টাকা
- খোলা সরিষার তেল: ১৯০ টাকা
📌 উপসংহার: বাজারে অস্থিরতা বাড়ছেই
বর্তমানে ঢাকার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা সাধারণ জনগণের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। একদিকে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, অন্যদিকে তেল ও মসলার দামে আগুন। দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে সাধারণ মানুষকে আগামীতে আরও কষ্টের মুখে পড়তে হবে।
